যাচ্ছিলেন নামাজ পড়তে, কোপাল প্রতিপক্ষের লোকজন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:১৭ পিএম, ১৪ জুন ২০১৯

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় ছেলেসহ প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক শফিউল্লাহ শফি। তাকে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার (১৪ জুন) দুপুরে ফতুল্লার কাশিপুর দেওয়ানবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ফতুল্লার কাশিপুর দেওয়ানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা থানা আওয়ামী লীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক শফিউল্লাহ শফি ও কাশিপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপিত শাহিন আলমের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তারা সম্পর্ক মামা-ভাগিনা ও একসময়ের গুরু-শিষ্য। তারা একে-অপরকে ঘায়েল করতে নানা কুট-কৌশল চালিয়ে আসছিলেন। শাহিনের নামে চাঁদাবাজি মামলাসহ দুটি মামলা দায়ের করেন শফি। চাঁদাবাজি মামলায় শাহিন জেলও খাটেন। এছাড়া স্থানীয় খেয়াঘাট নিয়েও বিরোধ চলছিল। তাদের মধ্যে ক্ষমতার প্রভাব নিয়েও চলছিল গ্রুপিং। সবকিছু মিলিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

শুক্রবার শফি তার ছেলে সনমকে নিয়ে জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের হামলা করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করে।

আহত শফিউল্লাহ শফি বলেন, স্থানীয় যুবলীগ নেতা শাহিন আলমসহ তার বাহিনীর লোকজন দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করায় তার বিরুদ্ধে এক মাস আগে মামলা করা হয়। ওই মামলায় ১০ দিন কারাভোগের পর জামিনে বের হয় সে। এরপর থেকে আমার ক্ষতি করতে নানা ধরনের চেষ্টা চালায়। শুক্রবার স্থানীয় মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় শাহিনের নেতৃত্বে তার লোকজন দুইদিক থেকে এসে আমার ও আমার ছেলের ওপর হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।

এ বিষয়ে শাহিন আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি শুনেছি শফি মামা ও সনমকে কে বা কাহারা কুপিয়ে আহত করেছে। ওনার সঙ্গে এলাকাসহ বাইরের অনেক লোকের বিরোধ রয়েছে। কে বা কাহারা ওনার ওপর হামলা করেছে উনি নিজেই বলতে পারবেন। অহেতুক আমার ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

তিনি বলেন, উনি কীভাবে এমন মিথ্যা অভিযোগ করছেন? ওনার সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব আছে বলেই মনগড়া আমার ওপর দোষ চাপানো ঠিক না। উনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে, আমাকে ঘায়েল করতে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। এখন আরেকটি মিথ্যা মামলা দেয়ার জন্য ওনার ওপর যে হামলা হয়েছে তার দোষ আমার ওপর চাপানো হচ্ছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আর আহত আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল্লাহর ভাতিজা রনি বাদী হয়ে শাহিনসহ কয়েকজনের নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন। আর রাতেই মামলাটি রুজু হবে এবং আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মো. শাহাদাত হোসেন/বিএ/এমকেএইচ