দিনাজপুর

আগাম মুকুলে ছেয়ে গেছে আমবাগান, কুয়াশা নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ১২:৪৩ পিএম, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

প্রকৃতিতে এখনো মাঘের তীব্র শীত। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই দিনাজপুরের আমগাছগুলোতে উঁকি দিতে শুরু করেছে হলদে মুকুল। জেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম আসা এসব মুকুলের সৌরভ ছড়াচ্ছে বাতাসে, যার চারপাশ ঘিরে শুরু হয়েছে মৌমাছির গুঞ্জন।

তবে বাগান মালিকরা বলছেন, কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হলে মুকুলে ‘পাউডারি মিলডিউ’ বা পচন রোগ ধরতে পারে, যা ফলন কমিয়ে দেওয়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কুয়াশার প্রকোপ কমলে এবার আমের বাম্পার ফলন পাওয়ার আশা করছেন তারা।

উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ও বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে , দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে, শহরের মডার্ন মোড়, মোহনপুর ব্রিজের পশ্চিম পাশে টোলপ্লাজা এলাকা, ৩ নম্বর ফাজিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ, ৯ নম্বর আস্করপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এবং পার্বতীপুর উপজেলার বিভিন্ন আমবাগানে আগাম মুকুল শোভা পাচ্ছে।

আগাম মুকুলে ছেয়ে গেছে আমবাগান, কুয়াশা নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা

মোহনপুর মোড়ের আমগাছ মালিক রুহুল আমিন জানান, তার ২০ বছর বয়সি গুটি জাতের আমগাছটিতে গত কয়েক বছর ধরেই আগাম মুকুল আসছে। তিনি বলেন, আগাম মুকুল দেখে মন ভালো হলেও ভয় একটাই—ঘন কুয়াশা। কুয়াশা বেশি হলে মুকুল পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

রামপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের সাগর মিয়া ও সোহেল মিয়া বলছেন, বেশিরভাগ গাছ মুকুলে ভরে গেছে। এক মাস আগে থেকে আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে।

উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের বসিরবানিয়া বড় মেড়েয়াপাড়া গ্রামের ‘দিনাজপুর আম বাগান’ মালিক আবু রেজা প্রামানিক জানান, আমার বাগানে প্রায় তিন হাজার আমের গাছ রয়েছে। মুকুল আসার পর থেকেই বাগানে আম গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা করছেন।

আগাম মুকুলে ছেয়ে গেছে আমবাগান, কুয়াশা নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা

এ বিষয়ে দিনাজপুর কৃষি সম্পম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. আনিছুজ্জামান বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই আবহাওয়াগত ও জাতের কারণেই মূলত আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, প্রতিবছরই কিছু আমগাছে আগাম মুকুল আসে। এবারও আসতে শুরু করেছে। ঘন কুয়াশার কবলে না পড়লে এসব গাছে আগাম ফলন পাওয়া যায়। আর আবহাওয়া বৈরী হলে ফলন মেলে না। তবে নিয়ম মেনে শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসবে সেসব গাছে মুকুল স্থায়ী হবে।

এমদাদুল হক মিলন/কেএইচকে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।