নিজ উদ্যোগে ব্রিজ নির্মাণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি
প্রকাশিত: ০১:১৪ পিএম, ১৬ জুন ২০১৯

পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া ধলিয়া খালের ওপারে বসবাস মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের ২০ গ্রামের মানুষের। যাদের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম ধলিয়া খালের উপর নির্মিত জিপেবল সেতু। এ সেতুটিই ছিল গত দুই দশক ধরে এপারের সঙ্গে ওপারের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম।

গেল বছরের মাঝামাঝি সময় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ধলিয়া খালের উপর নির্মিত জিপেবল সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর দুর্ভোগে পড়েন ওপারের মানুষ। সেতু না থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকির নিয়েই যাতায়াত করছেন দুর্গম পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া এসব লোকজন। এ অবস্থায় আসন্ন বর্ষায় সম্ভাব্য জনদুর্ভোগ মোকাবেলায় স্থানীয়দের উদ্যোগ ও অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে কাঠের ঝুলন্ত সেতু।

নিজেদের ঘাম আর শ্রমেই ২৫০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৫ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট এ ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ শেষে স্থানীয়দের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।

Bridge

সরকারি উদ্যোগে কবে বা কখন এ সেতু নির্মাণ হবে তা নিয়ে সংশয়ের মধ্যেই আছেন জানিয়ে দলদলি মৌজার মৌজা প্রধান দীন মোহন ত্রিপুরা বলেন, সেতু নির্মাণে এ অর্থের জোগান দিয়েছে স্থানীয়রা। সেতুটি নির্মাণে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হচ্ছে।

তিনি বলেন, দিনমজুর থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষ এ সেতু নির্মাণে অর্থের পাশাপাশি শারীরিক শ্রমও দিচ্ছেন।

নির্মাণের ১৮ বছরের মাথায় সেতু ভেঙে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য অমৃত কুমার ত্রিপুরা বলেন, ভেঙে যাওয়া সেতুটি পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় তিনটি ওয়ার্ডের বিশ গ্রামের মানুষের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকারিভাবে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও কবে হবে তা অনিশ্চিত। তাই নিজেদের দুর্ভোগ লাগবে নিজেরাই ঝলুন্ত সেতু নির্মাণ করছেন বলে জানান তিনি।

Bridge

একবছরেও সেতুটি নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় অধিবাসী বিনয়ন ত্রিপুরা বলেন, আমাদের দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই। এ সাঁকো নির্মিত হলে ২০ গ্রামের কৃষিজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ দূর হবে। যাদের তিনবেলা ভাত খেতে কষ্ট হয় তারাই নিজেদের অর্থায়নে সেতু নির্মাণ করছে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী জীবন রোয়াজা জানান, মাটিরাঙ্গার তপ্তমাস্টার পাড়া এলাকায় ভেঙে পড়া সেতুটি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হবে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে মাটিরাঙ্গা উপজেলায় তপ্তমাস্টার পাড়া এলাকায় ধলিয়া খালের উপর ২৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের জিপেবল সেতুটি নির্মাণ করা হয়। গেল বছর টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সেতুর মাঝামাঝি অংশের মূল পিলারের গোড়া থেকে মাটি সরে গেলে প্রবল স্রোতে সেতুটি নদীতে ভেঙে পড়ে।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :