পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ তদন্ত কমিটি গঠন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৯:১২ এএম, ২০ জুন ২০১৯
ফাইল ছবি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাঙালি ও চীনা শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সঙ্গে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) কর্মকর্তাদের জরুরি সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ঘটনার মূল কারণ জানতে জেলা প্রশাসনের একটি, পুলিশের একটি ও বিসিপিসিএল’র একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগামী সাতদিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী। তিনি জানান, প্রকল্প এলাকা এখন পুরোপুরি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রকল্পে কর্মরত বাঙালিদের ও চীনা নাগরিকদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. মইনুল হাসান জানান, প্রকল্পের ভেতরে পর্যাপ্ত পুলিশ ও আর্মড পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে, পুলিশের একটি তদন্ত কমিটি এ উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করছে।

উল্লেখ্য, কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে গত মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিকেল ৪টার দিকে কাজ করা অবস্থায় ব্রয়লার থেকে পড়ে সাবিন্দ্র দাস (৩৩) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার জের ধরে সেখানকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। বাঙালি শ্রমিকদের সঙ্গে সেখানে কর্মরত চীনা নাগরিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে ক্যান্টিন, অফিস, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ওয়েল্ডার ভাঙচুর করা হয়। এতে দুই পক্ষের প্রায় ২০ জন শ্রমিক আহত হন।

এদের মধ্যে ছয় চীনা নাগরিককে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ভোররাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চীনা নাগরিক চাং ইয়াং ফাং। অন্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।