বজ্রপাতে দুই মাস ধরে বরেন্দ্র রেডিও বন্ধ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৫:৫৮ পিএম, ২০ জুন ২০১৯

নওগাঁর ‘কণ্ঠস্বর’ বলে খ্যাত বরেন্দ্র রেডিও ৯৯.২ এফএম। গত আট বছর থেকে সফলতার সঙ্গে রেডিও কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি এক বজ্রপাত রেডিওতে পড়ায় একটি যন্ত্রের (ট্রান্সমিটার) ক্ষতি হয়েছে। ফলে দুই মাসের অধিক সময় থেকে বন্ধ হয়ে আছে রেডিওর কার্যক্রম। এতে কর্মহীন পড়ে পড়েছেন রেডিওর সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩৪ জন কর্মী। রেডিওটি বন্ধ থাকার পেছনে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছে সচেতন মহল।

জানা গেছে, বাংলাদেশে ১৮টি কমিউনিটি রেডিওর মধ্যে একটি নওগাঁর বরেন্দ্র রেডিও ৯৯.২ এফএম। ২০১২ সালের ৮ মার্চ নওগাঁ শহরের উকিলপাড়া উত্তরা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি ভবনের পাঁচতলায় রেডিওর সম্প্রচার শুরু হয়।

প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ছয়টি ও সপ্তাহে ৪২টি অনুষ্ঠান সম্প্রচার হতো। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার ব্যতীত আটটি উপজেলা এবং বগুড়ার আদমদীঘি, রাজশাহীর বাঘমারা এবং জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলাসহ মোট ১১টি উপজেলায় এই রেডিও শোনা যেতো। ৩৬ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ মানুষ রেডিও শুনতে পেতেন।

গত ১৪ এপ্রিল রেডিওতে বজ্রপাতে সম্প্রচারের মূলযন্ত্র ট্রান্সমিটার পুড়ে যায়। ফলে গত দুই মাসের অধিক সময় থেকে রেডিও সম্প্রচার বন্ধ হয়ে আছে। কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে রেডিওর সমস্যা সমাধান করতে পারেন।

শহরের চকমুক্তার মহল্লার শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়ে রেডিওতে ‘দূরন্ত কথা, নারীর অধিকার ও সচেতনতামূলক’ অনুষ্ঠান শুনতে খুব ভালো লাগতো। কিন্তু প্রায় দুই মাস হলো রেডিও বন্ধ হয়ে আছে। এতে করে খুব খারাপ লাগছে। জানি না কবে চালু হবে।

Naogaon-Radio-(2)

নওগাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রুমানা অরিন বলেন, নওগাঁর একমাত্র স্থানীয় গণমাধ্যম বরেন্দ্র রেডিও। ২০১২ সাল থেকে নিয়মিত শুনছি। মূলত নওগাঁর আঞ্চলিক ভাষা ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’, বিনোদনমূলক ‘মন যা চায়’, মাদকবিরোধী ‘ফিরে এসো’, শিক্ষামূলক ‘আলোর ভুবন’ ও স্থানীয় সংবাদ শুনতাম। কিন্তু হঠাৎ করে রেডিওর সম্প্রচার বন্ধ। এখনো চালু হয়নি। একটা মিডিয়া এতদিন বন্ধ থাকা সত্যিই দুঃখজনক।

রেডিওর সহকারী অনুষ্ঠান প্রযোজন শারমিন সুলতানা শশি বলেন, তিন বছর থেকে এই রেডিওর সঙ্গে সম্পৃক্ত। সপ্তাহে দুইদিন ‘এক কাপ চা’ নামে একটি অনুষ্ঠান পরিচালনা করতাম। তিন বছরে তিন বার স্টেশনের সমস্যা হয়েছে। একবার সমস্যা হলে কমপক্ষে ২-৩ মাস রেডিও সম্প্রচার বন্ধ থাকে। এতে করে অনেক শ্রোতা ক্ষুব্ধ হন। আবার অনেকে ফোন দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে রেডিও এভাবে বন্ধ থাকাটা খারাপ লাগে।

রেডিও স্টেশনের ম্যানেজার সুব্রত সরকার বলেন, রেডিওর যে যন্ত্রটি নষ্ট হয়েছে তা বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। এটি ফ্রান্স থেকে আনতে হয়। দাম প্রায় দেড় লাখ টাকা। সেই সঙ্গে আনুষঙ্গিক খরচ আছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩-৪ লাখ টাকা খরচ হবে। আর্থিক সংকটের কারণে যন্ত্রটি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রেডিও সম্প্রচার বন্ধ আছে।

বরেন্দ্র রেডিওর চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ বলেন, সাময়িক সমস্যার জন্য আমরা দুঃখিত। রেডিওর ট্রান্সমিটারের সমস্যা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি। কিছুদিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

আব্বাস আলী/এএম/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :