ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু, রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৪:২৪ পিএম, ১৩ জুলাই ২০১৯

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় এবার মৃতের স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘটনার দিন হাসপাতালের ভেতরে ভাঙচুর ও অপ্রীতিকর ঘটনায় হাসপাতালের কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে দাবি করে গত বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জের আমালি আদালত -২ এ হাসপাতালের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিরা হলেন- মৃত জুয়েলের মামা মো. স্বজল, ভাই কামাল মিয়া (জুয়েল মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার বাদী), মো. জামাল, মো. কামরুল, আত্মীয় আকরাম বক্স, মস্তোফা মোল্লা ও মোশারফ মোল্লা।

এর আগে গত ৫ জুলাই শুক্রবার জুয়েলের মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই কামাল বাদী হয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কামরুজ্জামান আজাদ, ডা. ইমরান, চিকিৎসকের সহযোগী গৌরাঙ্গ সাহা, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারফ হোসেন ও হাসপাতালের পরিচালক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় মামলা করেন।

গত ৪ মে বৃহস্পতিবার ভুল চিকিৎসায় জুয়েল মিয়া মারা যান। ওইদিন ডা. কামরুজ্জামান আজাদকে পুলিশ গ্রেফতার করে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠালে গত ৭ জুলাই তিনি আদালত থেকে জামিন পান। এরপর গত ১০ জুলাই বুধবার আসামি গৌরাঙ্গ রায় কিশোরগঞ্জ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

হাসপাতালের পরিচালক শফিকুল ইসলাম মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন জুয়েলের হাতের অপারেশন সঠিকভাবে হয়েছিল। অপারেশন শেষ হলে রোগী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবরে রোগীর স্বজনরা রাতে হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রাম ও এক্সরে মেশিন ভেঙে ফেলে। যার মূল্য ১৭ লাখ টাকা। রুম ভাঙচুরে ক্ষতি হয় দুই লাখ টাকা। হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীরা ভয়ে পালিয়ে যায়, যাদের কাছে বিল পাওনা ছিল দুই লাখ টাকা। ক্যাশে কর্মচারীদের বেতন রাখা ছয় লাখ টাকা ও নগদ আদায় এক লাখ টাকা ছিল যা স্বজনরা লুট করে নিয়ে গেছে। হাসপাতালের ফার্মেসির ওষুধ ও আর্থোপেডিক যন্ত্রপাতি ভেঙে ৭০ লাখ টাকা ক্ষতিসাধন করেছে হামলাকারীরা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রোগীর বড় ভাই কামাল মিয়া বলেন, ভুল চিকিৎসা করে ডা. কামরুজ্জামান আজাদ আমার ভাইকে মেরে ফেলল। সেদিন উত্তেজিত স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর করেছে কি-না আমি জানি না। আমি ঘটনার সময় মৃত ভাইকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তবে কে বা কারা হাসপাতালের দুটি রুম ভেঙেছে। এ বিষয়ে আমি জানি না। তাদের ক্ষতি এক কোটি টাকা দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, অসত্য ও কাল্পনিক।

অপর অভিযুক্ত সজল মিয়া বলেন, অপারেশনের সময় আমি হাসপাতালে ছিলাম না। খবর শুনে গিয়েছি তবে হাসপাতাল ভাঙচুর-লুটপাটের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তারা আমার ভাগ্নেকে মারল, আবার মিথ্যা মামলা করে আমাদের আসামি করল। আমরা মামলাটি মোকাবেলা করে সত্য ঘটনা আদালতকে জানাবো।

মামলার বাদী হাসপাতালের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, রোগী জুয়েল অপারেশনে মারা যাননি। তিনি অপারেশনের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার মৃত্যুর পর আসামিরা ও তাদের উচ্ছৃঙ্খল লোকজন আমাদের হাসপাতালের এক কোটি টাকার ক্ষতি করেছে।

আসাদুজ্জামান ফারুক/আরএআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :