কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকের ঢল

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ১২:০৩ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০১৯

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঈদুল আজহার ছুটিতে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। পর্যটকের পদচারণায় সাগর কন্যা কুয়াকাটা এখন মুখরিত। সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে নেচে-গেয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠছে শিশুসহ নানা বয়সী পর্যটকরা।

প্রথম শ্রেণির আবাসিক হোটেল-মোটেলগুলোর বেশিরভাগ রুম অগ্রিম বুকিং হলেও, রুম সংকটে পড়তে হয়নি পর্যটকদের। কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের আতিথিয়েতা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেলসহ প্রাইভেট আবাসিক হোটেল-মোটেল মালিকরা। জেলা পুলিশের তরফ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে দলে দলে বাস মাইক্রোবাস, পরিবহন ও ট্রাকে করে পর্যটকরা কুয়াকাটায় আসতে শুরু করে পর্যটকরা। গত মঙ্গলবার দিনভর মুষলধারে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে সৈকতে। আবহাওয়া একটু ভালো থাকায় বুধবার সকাল থেকে পর্যটকদের ভিড় বেড়ে গেছে। আগত পর্যটকরা সৈকতসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন। পর্যটকের ভীড়ে সৈকতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সৈকতের বালিয়াড়িতে পাতা বেঞ্চ ছাতার নিচে বসে নানা বয়সের পর্যটক দম্পতি গল্প, গান আর আড্ডায় মেতে উঠেছে।

Kuakata

সৈকতে পর্যটকদের বাড়তি বিনোদনে রয়েছে স্পিড বোট, ওয়াটার বাইক। এসব স্পিড বোট ও ওয়াটার বাইকে সমুদ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পর্যটকবাহী ফাইবার বোটে পর্যটকরা সুন্দরবনের পূর্বাংশ ফাতরার বন, লাল কাকড়ার চরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবাসিক হোটেল-মোটেল, খাবার ঘর ও শপিংমলসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেড়েছে বেচা-কেনা। আর এসব পর্যটকদের বাড়তি নিরাপত্তায় বিভিন্ন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দারা টহল দিচ্ছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকেও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে।

ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে আসা রফিকুল ইসলাম দম্পতি জানান, ঈদের ছুটিতে সৈকতে ঘুরতে এসে খুব আনন্দ পাচ্ছেন। কখনো হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের গর্জনের শব্দে কখনও ভয় আবার কখনও শিহরণ জাগায়। বৃষ্টিতে ভিজে নাচে গানে উল্লাসিত হয়ে পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছি।

Kuakata

আবাসিক হোটেল সৈকতের মালিক ও হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, এ বছর ঈদে প্রায় ৪০ ভাগ রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে অনেক পর্যটকরা ভিড় করলেও রুম সংকটে পড়তে হয়নি।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের সিনিয়র এএসপি মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ঈদুল আজহার ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের নিরাপত্তা চৌকিসহ মোবাইল টিম কাজ করছে। গঙ্গামতির লেক, লেম্বুরচরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্পটে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া সাদা পোশাকে জেলা পুলিশ ও র‌্যাব নিরাপত্তায় বাড়তি দায়িত্ব পালন করছে।

কাজী সাঈদ/এমএসএইচ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :