কাজে মন নেই ট্রাফিক পুলিশের!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৯:৪৩ এএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দিনদিন ভেঙে পড়ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) ও সার্জেন্টরা আছেন যে যার মতো করে। যেন কারো কোনো জবাবদিহিতা নেই। সড়কে তীব্র যানজটেও খুব একটা দেখা মেলে না তাদের। এতে যানজটে পড়ে নাকাল সাধারণ মানুষ। যানজটের সঙ্গে তীব্র গরমে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদেরকে রাস্তায় তাদের দায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালনের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ট্রাফিক পুলিশে ছয়জন ইন্সপেক্টর, ছয়জন সার্জেন্ট, দুইজন টিএসআই ও পাঁচজন এটিএসআই কর্মরত আছেন। আর কনস্টেবল রয়েছেন ২০ জনের অধিক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ভেতরে মানুষের যাতায়াতের অন্যতম বাহন হলো ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা। প্রতিদিন শহরে কয়েক হাজার ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচল করে। ছোট শহরে অতিরিক্ত এই যানবাহনের চাপ আর ট্রাফিক পুলিশের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করার কারণে প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হয়। মূলত শহরের মঠের গোড়া, টি এ রোড, কোর্ট রোড মোড়, কুমারশীল মোড়, পাইকপাড়া ও মেড্ডা এলাকায় যানজট দেখা দেয়। ট্রাফিক কনস্টেবলরা টাকার বিনিময়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ঢুকতে দেয়ায় কুমারশীল মোড় এবং ইজিবাইক ঢুকতে দেয়ায় মঠের গোড়া ও কোর্ট রোড এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়।

শহরের মেড্ডা বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে কুমারশীল মোড় থেকে যাত্রী নেয়ার জন্য কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে ২০ টাকা এবং মঠের গোড়া থেকে কুমারশীল মোড় এসে যাত্রী নেয়ার জন্য ১০ টাকা করে দিতে হয় বলে জানিয়েছেন চালকরা। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্টরা মাঝে-মধ্যে কিছু সিএনজি অটোরিকশা ও ইজিবাইক আটক করলেও পরবর্তীতে সেগুলো টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

বেশিরভাগ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্ট থাকেন কুমারশীল মোড় ও কাউতলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। সেখানে তারা কাগজপত্রহীন মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন আটক নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। আটক হওয়া কিছু যানবাহনকে মামলা দেয়া হয় আর অধিকাংশ যানবাহন ছেড়ে দেয়া হয় টাকার বিনিময়ে।

এদিকে শহরের যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার চালু হলেও সেটি খুব একটা উপকারে আসছে না। ইঞ্জিন সক্ষমতা কম ও ব্যাটারির চার্জ বেশি ফুরানোর কারণ দেখিয়ে বেশিরভাগ ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালক ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে চান না। এর ফলে যানজটের সমস্যা থেকেই গেছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নাখোশ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও।

এ ব্যাপারে জেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি পীযূষ কান্তি আচার্য জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিদিনের যানজটের কারণে নাগরিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের তাদের দায়িত্বটুকু আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টিআই) আহমেদ নূরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন।

আজিজুল সঞ্চয়/আরএআর/জেআইএম