অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের পরও বহাল তবিয়তে দুই প্রকৌশলী!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ১২:৪১ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯
(বাম থেকে) অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ও হাসনুল ইসলাম

চেক জালিয়াতির মাধ্যমে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রায় ৫৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্তেও টাকা আত্মসাতে তাদের সম্পৃক্ততা উঠে আসে। তারপরও বহাল তবিয়তে রয়েছেন (বিএমডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ও জিএফএম হাসনুল ইসলাম। এর আগে দুই দফা তদন্ত করে এই দুইজনের সম্পৃক্ততা পায় বিএমডিএ’র তদন্ত কমিটি।

অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন নওগাঁর আত্রাই এবং জিএফএম হাসনুল ইসলাম রাজশাহীর মোহনপুরে বিএমডিএ কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।

বিএমডিএ’র গোদাগাড়ী জোন-২ কার্যালয়ের এই ঘটনায় সহকারী হিসাবরক্ষক মতিউর রহমান ও সহকারী কোষাধ্যক্ষ খাবিরুদ্দিনও জড়িয়েছেন। এই দুইজনসহ চারজনের নামেই মামলা দায়েরের সুপারিশ করেছিল কৃষি মন্ত্রণালয়। সেই সুপারিশও বাস্তবায়ন করেনি বিএমডিএ।

জানা গেছে, ১৮১টি চেক টেম্পারিং করেছিলেন এই চারজন। ১৫৪ টাকার চেক টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে করা হয়েছে ৮৯ হাজার ১৫৪টাকা, ৪৫০টাকার চেক করা হয়েছে এক লাখ ৪৫০টাকা ও ৬২১ টাকার চেকে লেখা হয়েছে এক লাখ ৬২১টাকা।

এভাবেই ২০১১-২০১২ অর্থবছর থেকে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক থেকে তুলে নেয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ১২ হাজার ৩২১ টাকা। তবে চেকের মুড়ির অংশগুলোতে ঠিকঠাক রয়েছে প্রকৃত টাকার অংক। জালিয়াতি ঢাকতে গোদাগাড়ী জোন-২ কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে নথিপত্র পড়িয়ে দেয় চক্রটি।

ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রথমে বিএমডিএ দুই দফা তদন্ত করে। পরে অধিকতর তদন্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৬৫৭ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে জালিয়াতিতে এই চারজনের সম্পৃক্ততা উঠে আসে। এরপর অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে কমিটিগুলো।

এ ঘটনায় ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে অভিযুক্ত খাবিরুদ্দিন ও মতিউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ও জিএফএম হাসনুল ইসলাম এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

বিএমডিএ’র অডিট অফিসার শ্রী বাসুদেব চন্দ্র মহন্ত জানান, চেক টেম্পারিংয়ের প্রমাণাদি ধ্বংস করতে খাবিরুদ্দিন আগুন লাগিয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে তিনটি তদন্ত কমিটির রিপোর্টেই। প্রথম টেম্পারিং করেছিলেন মতিউর। এরপর খাবিরুদ্দিন। অভিযুক্ত খাবিরুদ্দিন ও মতিউর রহমান তদন্ত কমিটিগুলোর কাছে নিজেদের দায় স্বীকার করেছেন। তবে তাদের দাবি, এর পেছনে তৎকালীন দুই সহকারী প্রকৌশলীও ছিলেন ।

এ বিষয়ে মতিউর বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে আমাকে শাস্তি দিয়ে এক রকম ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমি এর নিষ্পত্তি চাই। এজন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছি।

তার দাবি, তৎকালীন সহকারী প্রকৌশলীর নির্দেশেই তিনি এ কাজ করেছিলেন। সেই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। খাবিরুদ্দিনের দাবিও প্রায় একই।

তবে এ ধরণের ঘটনার পরও পিএফ ফান্ড থেকে খাবিরুদ্দিনকে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছে বিএমডিএ। সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও কীভাবে ঋণ পেলেন তা নিয়েও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আবদুর রশিদ বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপিত না হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অ্যাকশন নেয়া হয় নি। এছাড়া খাবিরুদ্দিন বরখাস্ত হওয়ার আগেই ঋণের আবেদন করেছিল। তাই ঋণ পেয়েছে।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/আরএআর/এমএস