হত্যার ১৪ দিন পর বাবুলের মরদেহ ফেরত দিল বিএসএফ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ১১:৫৪ এএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হওয়ার ১৪ দিন পর বাবুল মিয়ার (২৫) মরদেহ ফেরত পেয়েছে পরিবার। মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সীমান্তে বিজিবির উপস্থিতে নীলফামারীর ডিমলা থানা পুলিশের কাছে বাবুল মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করে বিএসএফ। ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৫১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল ইসাহাক মন্ডল, ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজ উদ্দিন শেখ, পূর্বছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান ও দহগ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আবু হানিফ। ভারতের পক্ষে ছিলেন ৫৪ বিএসএফের উপ-অধিনায়ক এসওয়াই খেঙ্গারু, কোচবিহারের কুচলিবাড়ি থানার সার্কেল কর্মকর্তা পুরান রায় ও সুবাস চন্দ্র রায়।

পরে বাবুল মিয়ার মরদেহ তার বাবা নূর মোহাম্মদের কাছে বুঝিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেখান থেকে ছেলের মরদেহ গ্রামের বাড়ি ডিমলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জে নিয়ে আসেন।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৩ তারিখ ভোরে ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীর চরে গরু চড়াতে গিয়ে ভুলক্রমে ৭৭২ নং পিলারের কাছে বাবুল মিয়া, সাইফুল ইসলামসহ (১৪) কয়েকজন বাংলাদেশি সীমান্ত অতিক্রম করেন। এ সময় ভারতের উড়াল বিওপির বিএসএফ সদস্যরা এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবুল মিয়া নিহত হন।

এছাড়া উপজেলার ঝাড়সিংহেশ্বর গ্রামের গোলজার রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম (১৪) আহত হলেও বাকিরা ফিরে আসতে সক্ষম হন। পরে বিএসএফ আহত সাইফুলকে আটকসহ নিহত বাবুলের মরদেহ নিয়ে যায়। এরপর কোচবিহার জেলার কুচলিবাড়ি থানার পুলিশ বাবুলের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে হিমগারে রাখে।

এদিকে বাবুলের মরদেহ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য তার পরিবার ও এলাকাবাসী সীমান্তে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ, বিজিবিসহ বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে ঘটনার ১৪ দিন পর বিএসএফ বাবুলের মরদেহ ফেরত দিলেওিআহত সাইফুলকে ফেরত দেয়ার বিষয়ে কিছুই জানায়নি।

সাইফুলের বাবা গোলজার হোসেন বলেন, বাবুলের মরদেহ ফেরত পেয়েছে তার পরিবার। এখন সাইফুলকে ফেরতের দাবি জানাচ্ছি। কোচবিহার জেলার কুচলিবাড়ি থানার সার্কেল কর্মকর্তা পুরান রায় জানান, সাইফুলকে শিশু শোধনাগারে রাখা হয়েছে। উভয় দেশের পতাকা বৈঠকের পর আগামী ৩ মাসের মধ্যে তাকে হস্তান্তর করা হবে।

জাহেদুল ইসলাম/এমএমজেড/এমকেএইচ