হত্যার ১৭ বছর পর রায়, ২ জনের ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ০৪:৩০ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
প্রতীকী ছবি

ঝালকাঠির চাঞ্চল্যকর আনোয়ারা বেগম হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের রাজপাশা গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে খায়রুল আলম ওরফে শেখ হাসান ওরফে মহুরী হাসান এবং একই গ্রামের মৃত জালাল সরদারের ছেলে পিল্টন ওরফে পিন্টু।

যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিতরা হলেন একই গ্রামের আবুল হোসেনের দুই ছেলে রিপন মিয়া ও সালাম মিয়া এবং আব্দুস সোবাহানের ছেলে সাহাদাৎ হোসেন।

অপরদিকে খালাসপ্রাপ্তরা হলেন একই গ্রামের গিয়াস ও মামুন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০২ সালের ১৭ মে রাতে ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের রাজপাশা গ্রামে আনোয়ারা বেগমের ছেলে লিটন সিকদারকে হত্যা ও তাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসে দণ্ডিতরা। এ সময় লিটন সিকদারের মা আনোয়ারা বেগম একই গ্রামের আসামিদের চিনে ফেলেন। পরে আসামিরা আনোয়ারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করে।

ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পরদিন সদর থানায় শেখ হাসান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে গিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের (সিআইডি) বিচক্ষণতায় আসল ঘটনা উঠে আসে। পরে ২০০৩ সালের ১০ অক্টোবর শেখ হাসানসহ সাতজনকে আসামি করে একাটি হত্যা মামলা দায়ের করে সিআইডির তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা। ২০০৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সিআইডি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

দীর্ঘ শুনানি ও ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর সোমবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম আলম খান কামাল। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ শিকদার।

মো. আতিকুর রহমান/এমবিআর/এমএস