নুসরাতকে যৌন হয়রানির মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৫:৪৫ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০১৯

বহুল আলোচিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানির মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পেছানো হয়েছে। রোববার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালত আগামী ১৩ নভেম্বর ওই মামলার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানির পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। গত ২৪ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামির সবাইকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ।

আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে জেলা জজ আদালতের পিপি হাফেজ আহাম্মদ বলেন, গত ৫ আগস্ট ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে একমাত্র আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আজ ২৭ অক্টোবর মামলার বাদী ও নিহত নুসরাতের মা শিরিন আক্তারের সাক্ষ্যগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু বিচারক ছুটিতে থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পিছিয়ে আগামী ১৩ নভেম্বর করা হয়েছে।

মামলার একমাত্র আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা বর্তমানে নুসরাতকে হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে ফেনী কারাগারে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলম জানান, গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা নুসরাতকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে। পরে পুলিশ সদর দফতর থেকে মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। পিবিআই ৯৬ দিনের মাথায় গত ৩ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার ২৭১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে ডাক্তার ও পুলিশসহ মোট ২৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

রাশেদুল হাসান/আরএআর/এমএস