নুসরাত হত্যা : শূন্য হচ্ছে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মাকসুদের ওয়ার্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ১০:৫৩ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০১৯

বহুল আলোচিত মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলমের পদটি শূন্য হচ্ছে। তার ওয়ার্ডটি শূন্য ঘোষণায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নুসরাত হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি কাউন্সিলর মাকসুদ আলম। চলতি বছরের গত ৬ এপ্রিল নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যান। পরে ১১ এপ্রিল রাজধানীর একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এর আগে গত ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মো. মামুনুর রশিদ আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমান আদায় করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, মাকসুদুল আলম পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১০ হাজার টাকা অর্থ যোগান ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২০ মার্চ সোনাগাজী পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মেরে ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। পরের বছর সন্তান না পড়লেও রাহুল আমিন ও অধ্যক্ষ সিরাজের সাথে যোগসাজশে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অভিভাবক সদস্য পদটি দখল করেন নেন। আলু ব্যবসা থেকে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যান তিনি। কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে প্রভাব খাটিয়ে সোনাগাজী পৌর এলাকায় একের পর এক জায়গা দখল করতে থাকেন। ‘ভূমিখেকো’ হিসেবেও ব্যাপক পরিচিতি পান মাকুসুদুল।

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাঈনুল হক জানান, ফৌজধারা আইনে দণ্ডপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধিদের পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান (পৌরসভা/ইউনিয়ন) উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে তিনি নির্বাচন কমিশনে ওই পদটি শূন্য ঘোষণার সুপারিশ করেন।

সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে আমরা লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করেছি।

এ বিষয়ে সোনাগাজী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরীন আক্তার বলেন, নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে একজন কাউন্সিলর দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে আমরা অবগত হয়েছি। রায়ের ৭ দিনের মধ্যে ওই দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি উচ্চ আদালতে আপিল না করলে তার পদটি শূন্য ঘোষণার জন্য সুপারিশ করা হবে।

রাশেদুল হাসান/এমএসএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]