পাবনা জেনারেল হাসপাতালে তিনদিন ধরে নেই বিদ্যুৎ-পানি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৩:০৫ পিএম, ২৯ অক্টোবর ২০১৯

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালে তিনদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। আর বিদ্যুৎ না থাকায় পানিও নেই। বিদ্যুৎ-পানির অভাবে হাসপাতালে রাতের চিত্র হয় আরও ভয়াবহ। ভ্যাপসা গরম এবং অন্ধকারে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। ব্রেইন ষ্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী, প্রসূতি, নবজাতকসহ মেডিসিন ও গাইনি বিভাগে রোগীদের নাভিশ্বাস উঠেছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, পাবনা মেডিকেল কলেজের নিজস্ব হাসপাতাল নেই। এ কারণে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালকে অস্থায়ী হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এজন্য এখানে রোগীর চাপও সব সময় বেশি থাকে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৪১২ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে শিশু বিভাগে মাত্র ৩৮ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি আছে ২ শতাধিক। এছাড়া বহির্বিভাগে মঙ্গলবার চিকিৎসা পত্র দেয়া হয় ৭১০ জনকে।

Pabna

কিন্তু বিদুতের অভাবে এক্স-রে, অস্ত্রপচারসহ সব জরুরি চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। রাতে সৃষ্টি হচ্ছে ভুতুড়ে পরিবেশ। বিপন্ন হয়ে উঠেছে শিশু ও বয়বৃদ্ধদের জীবন। ভ্যাপসা গরমে রোগীদের জীবন অতিষ্ঠ। এছাড়া প্রাকৃতিক কার্য সম্পাদনে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী এবং তাদের স্বজনরা।

হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. রঞ্জন কুমার দত্ত জানান, রোববার রাতে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে চালুর চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।

বিদ্যুৎ বিভাগ পাবনা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিয়াউল ইসলাম জানান, পাবনা জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে ১১ কেভি লাইনের নিজস্ব ট্রান্সফরমার। এই ট্রান্সফরমার থেকে মাটির নিচ দিয়ে যাওয়া লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

Pabna

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আকসাদ আল মাসুর আনন জানান, লাইন মেরামতের জন্য পাবনা বিদ্যুৎ ও গণপূর্ত বিভাগের কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আশা করি মঙ্গলবারের মধ্যেই সংযোগ চালু হবে।

পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান খন্দকার জানান, সমস্যা শনাক্ত করা গেছে। আশা করছি খুব দ্রুতই সংযোগ চালু সম্ভব হবে।

এদিকে হাসপাতালে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা নিরাপত্তার অভাবসহ নানা সমস্যার সন্মুখীন হচ্ছেন। ইন্টার্ন চিকিৎসক জয়দেব সুত্রধর ও জাহিদুর ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের অভাবে শিশুদের নেবুলাইজেশন দেয়াসহ জরুরি চিকিৎসা সেবা দেয়া যাচ্ছে না। তারা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান দাবি করেন।

একে জামান/এমএমজেড/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।