লন্ডভন্ড বাগেরহাটের উপকূলীয় জনপদ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৯:৫৭ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০১৯

ঘূর্ণিঝড়ে সুন্দরবনের দুবলারচরের অস্থায়ী শুঁটকি পল্লীর ঘরগুলো লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে কয়েক লাখ টাকার শুঁটকি মাছ। কিছু গাছপালাসহ হারবাড়িয়া ও করমজল প্রজনন কেন্দ্রের দুটি স্থাপনা ছাড়া সুন্দরবনের বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বাগেরহাটের উপকূলীয় গ্রামীণ জনপদ।

বিভিন্ন উপজেলার শত শত কাচা-ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। রাস্তাঘাটে গাছ পড়ে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে ও তার ছিঁড়ে গেছে। এর ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক।

Bagerhat-Storm

ঝড়ে উপড়ে গেছে হাজার হাজার গাছপালা। ফুসে ওঠা পানি ও অবিরাম বর্ষণে ভেসে গেছে কয়েক হাজার মাছের খামার ও পুকুর। এতে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে মাছ চাষিরা। পানির তোড়ে ভেঙে গেছে শরণখোলা উপজেলার বগি ও বাগেরহাট সদরের মাঝিডাঙ্গা এলাকার দুটি বেড়িবাঁধ। এতে কয়েটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বাগেরহাট শহরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও কয়েকশ বাসা-বাড়ি জলমগ্ন হয়ে রয়েছে।

এছাড়াও ঝড়ের তাণ্ডবে শরণখোলা ও মোড়েলগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় শুক্রবার রাত থেকে বাগেরহাট জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি রোববার সকাল থেকে বাগেরহাট শহরে বিদ্যুৎ বিছিন্ন রয়েছে।

Bagerhat-Storm

বাগেরহাট দুর্যোগ মোকাবিলা প্রস্তুতি কমিটির ফোকালপারসন এডিসি মো. কামরুল ইসলাম জানান, ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিরবণ উপজেলা থেকে এখনও কন্ট্রোল রুমে পাঠানো হয়নি। দুইজনের মৃত্যু ছাড়া হতাহতের আর কোনো খবর এ মুহূর্তে আমাদের কাছে নেই। উপজেলা থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ চেয়ে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাগেরহাটের রামপাল ও ফকিরহাট উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে শিশু ও নারীসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন, রামপাল উপজেলার উজলকুড় গ্রামে শিশু সামিয়া খাতুন (১৫) ও ফকিরহাট উপজেলার চাকুলী গ্রামের গৃহবধূ হীরা বেগম (২৫)। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শওকত আলী বাবু/এমএএস/পিআর