যার ভয়ে গ্রামছাড়া ১১ পরিবার, সেই যুবলীগ নেতা আটক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৫:২৭ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম ছৈয়ালকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে ইউনিয়নের পাড়াগাঁও এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক মাসুম ছৈয়াল ওই গ্রামের মৃত ছিটু ছৈয়ালের ছেলে এবং নশাসন ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে নড়িয়া ও পালং মডেল থানায় মাদক, বিস্ফোরকসহ ১২টি মামলা রয়েছে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‘অভিযোগ দেয়ায় ১১ পরিবারকে গ্রামছাড়া করলেন যুবলীগ নেতা’ শিরোনামে মঙ্গলবার দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কম -এ সংবাদ প্রকাশ হয়।

গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে গ্রামের কয়েক ব্যক্তির ফসলি জমিতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নিজ বাড়িতে বালু উত্তোলন করছিলেন মাসুম ছৈয়াল। স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এলে ড্রেজার মেশিনটি পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

ওই গ্রামের বাসিন্দা জলিল আকন প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছে এমন অপবাদ দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে মাসুম ও তার বাহিনী। বর্তমানে জলিল আকন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় জলিল আকনের ভাই এমদাদ আকন বাদী হয়ে মাসুমকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে নড়িয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় জামিনে বেরিয়ে এলাকায় তাণ্ডব শুরু করেন মাসুম। পাশাপাশি মামলা তুলে নিতে বাদীপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা, বাড়িঘর লুটপাট ও মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন তিনি।

মাসুম ও তার বাহিনীর ভয়ে পাড়াগাঁও গ্রামের ১১ পরিবার বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছে এবং ১৫টি পরিবারে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছয় মাস ধরে বসতভিটা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। এতে করে তাদের সন্তানদের লেখাপাড়া ব্যাহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপার বরাবর ভুক্তভোগী পরিবারগুলো লিখিত অভিযোগও করেছেন।

নশাসন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন সরদার বলেন, মাসুম ও তার বাহিনীর ভয়ে পাড়াগাঁও গ্রামের অনেক পরিবার ছয় মাস ধরে বসতভিটা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিং ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে অনেকবার আলোচনা করেছি। আজ শুনলাম মাসুম ছৈয়ালকে পুলিশ আটক করেছে, শুনে ভালো লাগলো। এতে করে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসবে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, একটি মামলায় মাসুম ছৈয়ালকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে।

মো. ছগির হোসেন/এমবিআর/পিআর