ঝালকাঠিতে আ.লীগের সম্মেলন শেষে সংঘর্ষ, কাউন্সিলর গুলিবিদ্ধ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ১১:৫৫ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষে শহরের অতুলমাঝি খেয়াঘাট এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে। পৌর কাউন্সিলর ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি হুমায়ুন কবির খান এবং যুবলীগ নেতা কামাল শরীফের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধসহ ২১ জন আহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। গুলিবিদ্ধ পৌর কাউন্সিলর শাহ আলম খান ফারসুকে (৩৫) বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন ছয়জন। তারা হলেন- বাবুল হোসেন (৩৮), মিরাজ হোসেন (৩৫), আবির খান (১৭), রিয়াজ মৃধা (৩৯), শাহিন মাঝি (১৯) ও রুবেল খান (৩০)। এছাড়াও বরিশাল মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে সালাউদ্দিন, ইদ্রিস শরীফ, ইলিয়াস শরীফ, সুমন ও সবুজকে।

বিকেলে ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে পালবাড়ি এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

j

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মিরাজ হোসেন, আবির খান ও শাহিন মাঝি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল শেষে মিছিল নিয়ে আমরা বাড়ি ফিরছিলাম। পথে পালবাড়ির অতুলমাঝি খেয়াঘাট এলাকায় কামাল শরীফের নেতৃত্বে তার দলবল আকস্মিক হামলা চালায়। কামাল শরীফ তার পিস্তল দিয়ে গুলি ছুড়লে কাউন্সিলর ফারসুর পায়ে গুলি লাগে। তখন আমাদের ১৫/১৬ জন আহত হন।

এদিকে কামাল শরীফ এ ঘটনার বিষয়ে বলেন, আমি জেলা সম্মেলনে ছিলাম। সম্মেলন শেষে বাড়ি ফেরার পথে আমার ভাইসহ ১২/১৩ জনের ওপর হামলা চালায় হুমায়ুন কমিশনারের লোকজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি প্রতিপক্ষরা পিস্তল, রামদা দিয়ে এ হামলা চালায়। হামলায় আহত আমিসহ সবাই বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।

সংষর্ষে আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আহত ২১ জনকে চিকিৎসা দিয়েছি। এদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ। তার পা থেকে বুলেট বের করা হয়েছে। আরও কয়েকজন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, দুই গ্রুপের ব্যক্তিগত আক্রোশের জের ধরে এ সংঘর্ষ হয়েছে। কারও গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য আমার জানা নেই। বিশৃঙ্খলা এড়াতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।

মো. আতিকুর রহমান/বিএ