হাইকোর্টের নির্দেশের চার বছর পরও গেজেটে নেই ১৯১ মুক্তিযোদ্ধা
উচ্চ আদালতের নির্দেশের চার বছর পরও ঝালকাঠি জেলার ১৯১ মুক্তিযোদ্ধার নাম গেজেটভুক্ত হয়নি। ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তাদের নাম গেজেটভুক্ত করার আদেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে এ আদেশ পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশও দেয়া হয়েছিল।
কিন্তু দুই মাসের স্থলে ইতোমধ্যে কেটে গেছে চার বছর। কিন্তু আদালতের নির্দেশ আজও বাস্তবায়ন হয়নি, হয়নি গেজেট।
রিটকারীদের আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর বিচারপতি জুবায়ের রহমান ও বিচারপতি মাহমুদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ওই শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুকুমার বিশ্বাস। সরকার গঠিত উচ্চপর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি প্রণীত নীতিমালা অনুসারে ২০০৪ সালে ঝালকাঠির চার উপজেলা- ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, কাঁঠালিয়া ও রাজাপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা প্রস্তুত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
কিন্তু ২০০৬ সালের ৩০ মে মন্ত্রণালয় শুধু রাজাপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা গেজেট অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। অজানা কারণে বাকি তিন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের নাম গেজেটভুক্ত হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের ভূমিকার বিরুদ্ধে আব্দুল হাইসহ অন্য মুক্তিযোদ্ধারা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি করে ২০১১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
এরপর ঝালকাঠির জিপি অ্যাডভোকেট তপন কুমার রায় চৌধুরী ‘মোকদ্দমা দায়েরকারীরাসহ তালিকাভুক্তদের নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই’ মর্মে ২০১১ সালের ২ নভেম্বর মতামত দেন। ওই রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি করে ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর আদালত ১৯১ মুক্তিযোদ্ধার নাম দুই মাসের মধ্যে গেজেটভুক্ত করার আদেশ দেন। কিন্তু এখনও সেই আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় চরম হতাশায় দিন পার করছেন এসব মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার।
ঝালকাঠি মুক্তিযুদ্ধের গবেষক শ্যামল সরকার জানান, সারাদেশে রাজাকার আছে ৫০ হাজার। তালিকা প্রকাশ হয়েছে ১০ হাজার ৭৮৯ জনের। পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এখনও হয়নি। ঝালকাঠি জেলায় যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তার বাইরেও অনেক রাজাকার আছে। তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পরে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হলে তখন বিষয়টা স্পষ্ট হবে।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার দুলাল সাহা জানান, ঝালকাঠিতে রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধকালে অনেকেই ছিল যাদের সবার নাম ১৯১ জনের মধ্যে নেই। ১৯১ জনের তালিকাটি অসম্পূর্ণ। ২০১০ সালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্দেশক্রমে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সৈয়দ শামসুল আলম ও ডেপুটি কমান্ডার দুলাল সাহা (আমি) যে তালিকাটি প্রণয়ন করেছিলাম তা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সরকারি গোয়েন্দা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছিল। তাতে সহস্রাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছিল, যা এখনও সংশ্লিষ্ট দফতরে সংরক্ষিত আছে। যাদের অনেকের নামই এ তালিকায় নেই। পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ না হলে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
মো. আতিকুর রহমান/এমএমজেড/জেআইএম