শিশু ধর্ষণের মামলা এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় মীমাংসা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নড়াইল
প্রকাশিত: ০১:৫৩ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৯
প্রতীকী ছবি

নড়াইলে এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় শিশু ধর্ষণ মামলার মীমাংসা করা হয়েছে। এতে পুলিশের জন্য ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে বলে দাবি ধর্ষকের পরিবারের। নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বোড়ামারা গ্রামের মান্নান শিকদারের বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সালিশ বৈঠকে ধর্ষককে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মাইজপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি স্থানীয় মাতব্বর সলেমান মোল্যার সভাপতিত্বে ওই সালিশে আরও উপস্থিত ছিলেন আলি মিয়া, বক্কার মোল্যা, আজিজার মোল্যা, আবু তাহের মোল্যা, মোনায়েম শেখ মোল্যা, ধর্ষক ও ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজনসহ আরও ২৫ থেকে ৩০ জন।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে মাইজপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য সবুর ভূঁইয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

ধর্ষণের শিকার শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ও ১১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় সালিশে এক লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে তৃতীয় দফায় সালিশে এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা গ্রাম্য সালিশকারীরা পাবেন। ৭০ হাজার টাকা পাবে ভুক্তভোগীর পরিবার। এছাড়াও পুলিশের জন্য যা করা দরকার তা আসামিপক্ষ করবে মর্মে সালিশে সিদ্ধান্ত হয়।

ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা জানান, সালিশের সভাপতি সলেমান মোল্যার কাছ থেকে তিনি ৭০ হাজার টাকা বুঝে পেয়েছেন। পুলিশের অংশ আসামিরা মেটাবে।

মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনা শুনে আমার মাথা ঠিক ছিল না, তাই মামলা করেছি। এখন গ্রামের লোকের চাপে সালিশে মীমাংসা করতে বাধ্য হয়েছি।

পাশেই ধর্ষণে অভিযুক্ত আমজাদের বাড়ি। তিনি মামলার পরদিন থেকেই পলাতক। তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে সালিশ হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার কোর্ট বন্ধ। রোববার পুলিশের মাধ্যমে এই মামলা মিটবে। তাই আমজাদ এখনো পলাতক।

আমজাদের স্ত্রী পিয়ারী বেগম বলেন, মোট এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় গ্রামের মাতব্বররা সালিশে মীমাংসা করেছেন। অর্ধেক টাকা বাদীর পরিবার পাবে। আর বাকি টাকা পুলিশকে দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করা হবে।

এদিকে মাতব্বর মোনায়েম সালিশে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এগুলো সাংবাদিকের কাজ না। এখান থেকে চলে যান। না হলে খুব ভালো হবে না।

গত ২ ডিসেম্বর দুপুরে বাবা খুলনায় এবং মা পাশের গ্রামে থাকায় পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ফাঁকা বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ করে পাশের বাড়ির আমজাদ মুন্সি। এ সময় শিশুটির চিৎকারে তার ভাবি এগিয়ে এলে আমজাদ পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ৩ ডিসেম্বর ধর্ষণের শিকার শিশুটির বোন মাবিয়া বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

ধর্ষণ মামলা সালিশে মীমাংসা করার বিষয়ে মাইজপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সলেমান মোল্যা বলেন, আগে দুই দফা বসা হয়েছিল। তেমন ফয়সালা হয়নি। বৃহস্পতিবার মাতব্বররা আসেনি বলে আমি চলে এসেছি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়াইল সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা বলেন, এই ধরনের মামলা আপসযোগ্য নয়। স্থানীয় মাতব্বররা পুলিশের নাম ভাঙাতে পারে। তাতে আমাদের কী করার আছে? আমরা নিয়ম অনুযায়ী মামলার চার্জ গঠন করব।

নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ধর্ষণ মামলা হয়েছে। এটি নিয়ম অনুযায়ী চলবে। মীমাংসার কোনো খবর আমার কানে আসেনি। সবুর ভূঁইয়া নামে এক ইউপি সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

হাফিজুল নিলু/আরএআর/এমএস