হাওরে শুরু হয়নি ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষকরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১২:০৬ পিএম, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯

নির্ধারিত সময়ের এক মাস পর নেত্রকোনার হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ করতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়েছে। এবার জেলায় মোট ৭৬টি পিআইসি গঠন করা হয়। এর মধ্যে মাত্র একটি কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নীতিমালা অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন ও ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা শেষ করার কথা, কিন্তু তা হয়নি। এতে শঙ্কায় আছেন ওই অঞ্চলের কৃষকরা।

জেলা পাউবো, স্থানীয় প্রশাসন ও হাওর অঞ্চলের বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নেত্রকোনার খালিয়াজুরি, মোহনগঞ্জ, মদন ও কলমাকান্দার উপজেলার আংশিক মূলত হাওর এলাকা। জেলায় ছোট বড় মোট ১৩৪টি হাওর রয়েছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরিতে ৮৯টি হাওর। বোরো ফসলই এখানকার একমাত্র ফসল। এই ফসলের ওপরই নির্ভর করে কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ, চিকিৎসা, আচার-অনুষ্ঠান ও সন্তানদের পড়ালেখা।

হাওরঞ্চলে ৩১০ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরিতে মোট ১৮১ কিলোমিটার ডুবন্ত অস্থায়ী বাঁধ আছে। ওই বাঁধের ওপর খালিয়াজুরি ও মোহনগঞ্জের স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ৫০ হেক্টর জমির রোরো ফসল নির্ভর করে। এই ফসল রক্ষা বাঁধগুলো মেরামতের জন্য এবার পাউবো প্রথম পর্যায়ে ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা অনুমোদন দেয়। গত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে পিআইসি গঠন করে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা শেষ করার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস পর ৭৬টি পিআইসি গঠন করা হয়।

এর মধ্যে খালিয়াজুরিতে ৩৬টি ও মদনে ৩১টি পিআইসি রয়েছে। কিন্তু শুধু মাত্র খালিয়াজুরির চাকুয়া ইউনিয়নের পাতরা বাঁধে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে মদনে সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) মাঘান ও গোবিন্দশ্রী এলাকায় দুটি পিআইসির কাজ উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ব্যাপারে খালিয়াজুরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম আরিফুল ইসলাম বলেন, খালিয়াজুরিতে ৩৬টি পিআইসির মধ্যে গত সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) একটির কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। বাকিগুলোতে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

জানতে চাইলে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, হাওরে এবার পানি ধীর গতিতে নামার কারণে বাঁধ নির্মাণের জরিপ এখনো শেষ হয়নি। তাই কাজ শুরু করতে একটু দেরি হচ্ছে।

কামাল হোসাইন/আরএআর/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।