চাল কলের দুষিত পানিতে আড়াইশ বিঘা জমির ফসলের ক্ষতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ১০:১৫ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২০

নওগাঁ সদর উপজেলায় নওগাঁ-সান্তাহার আঞ্চলিক মহাসড়কের সাহাপুর নামক স্থানে কালভার্টের মুখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চাল কল তৈরি করেছেন আলহাজ বেলাল হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী। চাল কল তৈরির কারণে কালভার্ট দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া চাল কলের দুষিত পানি সরাসরি ফসলের মাঠে যাওয়ায় ফসল নষ্ট হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জানাগেছে, ১৯৮৪ সালে নওগাঁ-সান্তাহার আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর পাশে সাহাপুর নামক স্থানে সুনামধন্য ‘বেলকন চাল কল’ তৈরি করা হয়। কিন্তু তার আগে তৈরি করা হয় কালভার্ট। কালভার্টের মুখ ঘেঁষে চাল কলের স্থাপনা তৈরি করায় এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসে না। এতে করে রাস্তার উত্তর পাশের ধামকুড়ি, সাহাপুর ও বশিপুরসহ কয়েকটি গ্রামের পানি ওই কালভার্ট দিয়ে যেতে পারে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া চাল কলের কালো পানি তার আশ পাশে ফসলের জমিতে পড়ছে। আবার সরাসরি কালভার্ট দিয়ে রাস্তার দক্ষিণপাশে দোগাছী গ্রামের মাঠের ব্যক্তিগত ফসলে গিয়ে পড়ে। এতে করে প্রায় শতাধিক কৃষকের ফসলের ক্ষতি হওয়ায় ঠিকমতো ফসল হয় না এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দেয়। চাল কলের পানিতে উত্তর ও দক্ষিণ পাশের প্রায় দুই থেকে আড়াইশ বিঘা জমিতে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয়রা বিষয়টি বার বার চাল কল মালিককে বলার পরও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

দোগাছী গ্রামের ওয়ার্কসপ মিস্ত্রি মুসা বলেন, আগে তারা গাড়ি দিয়ে দুষিত পানি ফেলে দিতো। কিন্তু সেটা কয়েক বছর থেকে আর দেখা যায় না। এখন চাল কলের দুষিত পানি কালভার্টের ভেতর নালা দিয়ে সরাসরি ফসলের ক্ষেতের মধ্যদিয়ে চলে যায়। যেসব পানি যাচ্ছে তা ব্যক্তিগত জমির ফসলের উপর দিয়ে যায়। ফলে মাঠের ফসল পোকা ধরে নষ্ট হয়।

Naogaon-Kalvart-Pic_02

স্থানীয় সিমেন্ট ব্যবসায়ী মেহেরুল হাসান সাবু বলেন, আমাদের জমিটা ওয়াকফ স্টেটের। যার কারণে বেলকন গ্রুপের মালিক একটু বেশি সুবিধা নিতে চান। চাল কলের দুষিত ও গরম পানি তাদের হাউজে ফেলার পরে সেখান থেকে ওভারফ্লু হয়ে আমার জমিতে পড়ে। এ কারণে আমার ৪৬ শতাংশ জমির পুরোটাই ফসল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছি। এছাড়া একটু দূরে ২৫ শতাংশ জমির অর্ধেক পরিমাণ ফসল পাই। আমি অনেক বার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে বলেছি। কিন্তু তারা ক্ষমতাবান হওয়ায় কোনো কথা শুনছে না।

বেলকন গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ বেলাল হোসেন বলেন, ১৯৮৪ সালে চাল কলটি স্থাপন করা হয়েছে। মাঠে শুধু আমার চাল কলের পানি না, অন্যান্য চাল কলের পানিও যায়। আমার জানামতে আমি কারও উপকার ছাড়া ক্ষতি করিনি।

নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হামিদুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তবে ঘটনাস্থল দেখার পর যদি কালভার্ট দিয়ে পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা দেখা যায় তবে সরকারি বিধি মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁ সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা একেএম মফিদুল ইসলাম বলেন, দুষিত পানি ফসলি জমিতে পড়লে ফসল নষ্ট হয়। তবে ওই চাল কলের দুষিত পানি যে ফসলের মাঠে যায় বিষয়টি জানা নেই। তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আব্বাস আলী/এমএএস/এমকেএইচ