তিন মাস রাস্তায় পড়েছিলেন বৃদ্ধা, এগিয়ে এলেন মামুন বিশ্বাস

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ১২:৪৭ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২০

খলিল, হাসনা বেগম ও শ্যামলী রানির পর আরও এক অসুস্থ বৃদ্ধা (৬০) হলেন স্বজনদের বোঝা! তারও ঠাঁই হলো রাস্তায়। অজ্ঞাত পরিচয় এ বৃদ্ধা সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা বাজার এলাকা নদীর পাশের একটি পরিত্যক্ত স্থানে বেশ কিছুদিন ধরেই পড়ে রয়েছেন। তবে রক্তের সম্পর্ক যখন বিশ্বাসঘাতকতা করে ঠিক তখনই সামনে এসে দাঁড়ায় মানবতা। অসহায় এই বৃদ্ধার পাশে এসে দাঁড়ালেন ‘দি বার্ড সেফটি হাউস’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে ভর্তি করালেন সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে।

গত শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সংগঠনটির সভাপতি মামুন বিশ্বাস ও তার সহযোগী লোকমান হোসেন ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করেন। গতকাল রোববার তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। চিকিৎসার পাশাপাশি স্বজনদেরও সন্ধানের চেষ্টা করছে সংগঠনটি।

সলঙ্গা অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা ও বাজারের সাইকেল মেরামত মিস্ত্রি আব্দুল মমিন জানান, তিন মাস আগে রাতের আঁধারে অসুস্থ এ বৃদ্ধাকে নদীর পাশের একটি পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রেখে যায় তার স্বজনরা। গুরুতর অসুস্থ এই বৃদ্ধা চলাফেরা করতে পারেন না এবং কোনো কথাও বলতে পারছিলেন না। এ কারণে তার নাম-পরিচয় বা স্বজনদের ঠিকানাও জানা যায়নি। এরপর থেকে স্থানীয়রা তাকে খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। প্রচণ্ড শীতে খোলা জায়গায় কষ্ট পাচ্ছিলেন দেখে এলাকাবাসী একটি পলিথিনের ছাউনি তৈরি করে দেন। কনকনে ঠান্ডায় কিছু খড় ও পুরোনো কম্বল মুড়িয়ে পড়েছিলেন এই বৃদ্ধা।

mamun

বিষয়টি স্থানীয় ফেসবুক গ্রুপ ‘বর্ণচ্ছটা’র নজরে আসে। এরপর তারা শাহজাদপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দি বার্ড সেফটি হাউসকে অবগত করলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দি বার্ড সেফটি হাউসের সভাপতি মামুন বিশ্বাস বলেন, স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল রানা ও বর্ণচ্ছটা সংগঠনের মাধ্যমে ওই বৃদ্ধার বিষয়টি আমাকে জানানো হয়। খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে গোসল করাই। এরপর নতুন পোশাক পরিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

mamun

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রোকনুজ্জামান বলেন, বয়সের ভারে ন্যুজ এ বৃদ্ধা মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি কথা বলতে পারছেন না এবং ঠিকমতো চলাফেরাও করতে পারছেন না। বেশ কিছু পরীক্ষা দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার পর তার শারীরিক কন্ডিশন জানা যাবে।

প্রায় দুই বছর আগে শাহজাদপুরে বেতকান্দি এলাকায় খলিল নামে এক অসুস্থ বৃদ্ধকে ফেলে রেখে যায় স্বজনরা। একই বছর হাসনা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে পালিয়ে যায় তার পরিবারের লোকজন। গত বছরের এপ্রিল মাসে বৃদ্ধা শ্যামলীকে সিরাজগঞ্জ বাজার রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় রেখে যায় সন্তানরা এবং একই বছর জুন মাসে শাহজাদপুরের একটি মাজারের পাশে অজ্ঞাত পরিচয় এক বৃদ্ধাকে ফেলে রেখে যায় নিজ রক্তের আত্মীয়রাই।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/বিএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।