চুরির অপবাদে খুঁটিতে বেঁধে কিশোরকে নির্যাতন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ১০:৪৯ এএম, ২১ জানুয়ারি ২০২০

লক্ষ্মীপুরে চামড়ার আড়ত থেকে টাকা চুরির অপবাদে এক কিশোরকে (১৬) বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে.। এ সময় তার গলায় ঝাড়ু ও জুতার মালা দেয়া হয়। উৎসুক জনতা নির্যাতনের ভিডিও ও ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করে। এতে ঘটনাটি সোমবার (২০ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

ওই কিশোর বলছে, আড়তদারের কাছে তার মজুরির টাকা পাওনা রয়েছে। টাকা না দিতেই নাটক সাজিয়ে তার প্রতি এমন অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে।

গত শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলের এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে চারজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আট জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়। কিশোরের নানি বাদী হয়ে এ মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিকেলে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তের স্বার্থে অন্য আসামিদের নাম জানায়নি পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন- লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর এলাকার আবু তাহেরের ছেলে মো. রাশেদ ও মৃত নাছির আহমেদের ছেলে ইসমাইল আহমেদ। রাশেদের গরুর চামড়ার আড়ত রয়েছে। ওই আড়ত থেকেই কিশোরের বিরুদ্ধে টাকা চুরির অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু কত টাকা চুরি হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা মার গেছেন। কিছুদিন আগে তার মাও মারা যান। এখন সে নানির সঙ্গে বসবাস করে। আহত কিশোরকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে কিশোরকে মারধর করা হচ্ছে। এ সময় তার গলায় ঝাড়ু ও জুতার মালা রয়েছে। শনিবার লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মহিউস সুন্নাহ জালালিয়া মাদরাসা এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের পর কিশোরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে নির্যাতনকারীরাই পুলিশের কাছ থেকে কিশোরকে ছাড়িয়ে এনে সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করে। রাশেদের চামড়ার আড়তের ওই বৈঠকে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জিয়াউর রহমান শিপনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় কিশোরকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু নানা-নানি দায়িত্ব না নেয়ায় বৈঠকে আবারও তাকে চড়-থাপ্পড়সহ মারধর করা হয়। পরে রোববার (১৯ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কিশোরকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কিশোরের নানি জানান, রাশেদের চামড়ার আড়তে ছয় মাস ধরে সে কাজ করছে। কিন্তু রাশেদ ঠিকমতো তার পারিশ্রমিক দিচ্ছে না। এখনো সে প্রায় ৩ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। ওই টাকা না দিতেই নাটক সাজিয়ে তার নাতিকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। একই অভিযোগ নির্যাতনের শিকার কিশোরের।

তবে দোকান মালিক রাশেদ জানান, তার আড়ত থেকে টাকা চুরির সত্যতা পাওয়ায় এলাকাবাসী তাকে ঝাড়ু ও জুতার মালা পরিয়ে দেয়। তবে কত টাকা চুরি হয়েছে নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেননি তিনি।

জানতে চাইলে জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘরের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এম এ রহিম বলেন, নৈতিকতার অভাবে শিশু নির্যাতন বাড়ছে। শিশুদের সামাজিক ও পারিবারিক সুরক্ষা দিতে হবে। এজন্য সব ক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করা জরুরি।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

কাজল কায়েস/আরএআর/জেআইএম