খুঁটিতে বেঁধে কিশোরকে নির্যাতন, প্রধান আসামির রিমান্ড আবেদন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৯:১৯ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২০

লক্ষ্মীপুরে চুরির অপবাদে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে কিশোরকে (১৬) নির্যাতনের মামলায় গ্রেফতার দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি অঞ্চল (সদর) আদালতে তাদের হাজির করা হয়। এ সময় বিচারক মোহাম্মদ আবদুল কাদের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. কাউছারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলার প্রধান আসামি মো. রাশেদের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড আবেদন নিয়ে শুনানি চলছে। আদালতের নির্দেশে রাশেদসহ অন্য আসামি ইসমাইল আহমেদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাশেদ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর এলাকার আবু তাহেরের ছেলে ও ইসমাইল একই এলাকার মৃত নাছির আহমেদের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই কিশোর একই এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দার ছেলে। কিছুদিন আগে তার মা মারা যান। এখন নানির সঙ্গে বসবাস করছে সে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ছয় মাস ধরে রাশেদের গরুর চামড়ার আড়তে কাজ করছে ওই কিশোর। কিন্তু সময়মতো রাশেদ তাকে পারিশ্রমিক দিতো না। এখনও সে রাশেদের কাছে তিন হাজার টাকা পাওনা।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) দোকানের টাকা চুরির অপবাদে ওই কিশোরকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তার গলায় জুতা ও ঝাড়ুর মালা দেয়া হয়।

পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মহিউস সুন্নাহ জালালিয়া মাদরাসা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের পরে কিশোরকে পুলিশে দেয়া হয়। পরে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে সালিশ-বৈঠকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু কিশোরের নানি ওই টাকা দিতে পারবে না বললে রাশেদসহ আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে কিশোরকে আবার মারধর করে।

অপরদিকে জুতা ও ঝাড়ুর মালা গলায় দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে কিশোরকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছেড়ে দেয় অভিযুক্তরা। পরে ওই ভিডিও ভাইরাল হয়।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে কিশোরের নানি বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও আটজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কিশোরের নানি বলেন, রাশেদের চামড়ার আড়তে ছয় মাস ধরে কাজ করেছে নাতি। রাশেদ ঠিকমতো তাকে পারিশ্রমিক দিচ্ছে না। এখনও তার কাছে তিন হাজার টাকা পাওনা রয়েছে নাতি। ওই টাকা না দিতেই নাটক সাজিয়ে আমার নাতিকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে।

কাজল কায়েস/এএম/এমকেএইচ