রাস্তায় ফেলে গেল সন্তানরা, বৃদ্ধাশ্রমে মা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ১০:০৮ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২০

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা বাজারের রাস্তায় সন্তানদের ফেলে রেখে যাওয়া সেই অসুস্থ বৃদ্ধা মায়ের ঠাঁই হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে।

বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ‘সাড়া মানবিক বৃদ্ধাশ্রমের’ প্রতিনিধিদের কাছে ওই বৃদ্ধা মাকে তুলে দেয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লোকমান হোসেন, শাহরীয়ার ইমন ও রিপন সরকার। সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল থেকে ওই বৃদ্ধাকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিন মাস আগে রাতের আঁধারে অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে রাস্তায় ফেলে রেখে যান সন্তানরা। গুরুতর অসুস্থ এই বৃদ্ধা চলাফেরা করতে পারেন না এবং কোনো কথাও বলতে পারছিলেন না। এ কারণে তার নাম-পরিচয় বা স্বজনদের ঠিকানাও জানা যায়নি।

এরপর থেকে স্থানীয়রা তাকে খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। প্রচণ্ড শীতে খোলা জায়গায় কষ্ট পাচ্ছিলেন দেখে এলাকাবাসী একটি পলিথিনের ছাউনি তৈরি করে দেন। কনকনে ঠান্ডায় কিছু খড় ও পুরনো কম্বল মুড়িয়ে পরেছিলেন এই বৃদ্ধা।

বিষয়টি স্থানীয় ফেসবুক গ্রুপ ‘বর্ণচ্ছটা’র নজরে এলে তারা শাহজাদপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দি বার্ড সেফটি হাউসকে জানায়। গত শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সংগঠনটির সভাপতি মামুন বিশ্বাস ও তার সহযোগী লোকমান হোসেন ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধারের পর সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

দি বার্ড সেফটি হাউসের চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস বলেন, উদ্ধারের পর বৃদ্ধার কথা বলার মতো শক্তি ছিল না। চিকিৎসা দেয়ার পর এখন কিছুটা কথা বলতে পারলেও নাম-পরিচয় বলতে পারছেন। তবে বর্তমানে তিনি সুস্থ। বুধবার তাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো হয়েছে।

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সাড়া মানবিক বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালক সাইফুল মালেক বলেন, ফেসবুক ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে অসহায় ওই বৃদ্ধার বিষয়টি জানতে পারি। পরে মামুন বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে ভালুকায় নিয়ে আসি। এখানে আরও বৃদ্ধা রয়েছেন। তাদের সঙ্গে এই বৃদ্ধাকে খাদ্য, আবাসন ও চিকিৎসা দেয়া হবে। তবে যদি কখনও তার স্বজনদের সন্ধান পাওয়া যায় তাহলে তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এএম/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]