খাসির নামে বিক্রি হচ্ছে ভেড়ার মাংস

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ১২:০৯ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২০

ঠাকুরগাঁওয়ের রোজ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট এবং কড়াই গোস্ত নামে দুটি রেস্তোরাঁয় ভেড়া জবাই করে খাসির মাংস বলে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (২৬ জানুয়ারি) ওই দুটি রেস্তোরাঁয় মাঝামাঝি তাদের নিজম্ব রান্না ঘরের সঙ্গে একটি স্থানে ভেড়া জবাই করতে দেখা গেছে।

হোটেল সূত্রে জানা যায়, একক মালিকানার ওই দুটি হোটেলে প্রতিদিন ১০-১২টি খাসি জবাই হয়। পরে তা রান্না করে মাংস বিক্রি করা হয়। প্রতি পিস মাংস ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। তাদের খাবারের মেনুতে গরু, খাসি, মাছ, মুরগিসহ অন্যান্য খাবারের নাম থাকলেও ভেড়ার মাংসের কথা উল্লেখ নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রোববার দুপুরে হোটেল দুটির মাঝামাঝি স্থানে নিজস্ব রান্না ঘরে ১৫টি ভেড়া ও খাসি জবাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টিই ভেড়া। দুইজন কসাইসহ তিনজন মিলে এগুলো জবাই করে কাটাকাটি করছেন। এ সময় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত হয়ে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন। একপর্যায়ে ওই হোটেলে কর্মরত কর্মীরা সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দেন এবং হোটেলে ভেতরের রান্না ঘরের অংশের গেট বন্ধ করে দেন।

ওই হোটেলের স্টাফ কসাই আমান ইসলাম বলেন, পাঁচটি ভেড়া ও পাঁচটি খাসি জবাই হয়েছে। কেন ভেড়া জাবাই হয়েছে আমি জানি না, মালিক জানেন।

রোজ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ক্যাশিয়ার শিমুল মাহাত বলেন, আমি ক্যাশের দায়িত্বে আছি। ভেতরে কী হচ্ছে তা আমার জানা নেই। ওটা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

রোজ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আসা সদর উপজেলার শিবগঞ্জ এলাকার আব্দুল লতিফ লিটু বলেন, ভেড়া জবাই করে খাসির মাংস বলে বিক্রি করা প্রতারণা। আমি প্রায়ই এই হোটেল দুটিতে খেতে আসি। হোটেল দুটির খাবারের মেনুতে ভেড়ার মাংস বিক্রি হওয়ার কথা উল্লেখ নেই।

আরেক ভোক্তা হরেশ চন্দ্র বলেন, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে রোজ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট এবং কড়াই গোস্ত হোটেলের মালিক আবুল কাশেম বলেন, ভেড়া জবাই হওয়ার কথা নয়, প্রতিদিনই খাসি জবাই হয়। যেহেতু আমি ঠাকুরগাঁওয়ে নেই, আমার অনুপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।

আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।