ভালোবাসা দিবসে ভিড় লেগেছে জয়নালের সেই শিমুল বাগানে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:৪৮ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নতুন বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী ঋতুরাজ বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস আজ। একই সঙ্গে ঋতুরাজ বসন্ত শুরু হওয়া ও ভালোবাসা দিবসের তারিখ একদিনে হওয়ায় সুনামগঞ্জে পর্যটকদের আনাগোনা ছিল চোখের পড়ার মতো। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় জাদুকাটা নদী, ট্যাকেরঘাট ছাড়াও পর্যটকদের মূল আকর্ষণ ছিল তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও গাছপ্রেমিক জয়নাল আবেদীনের তৈরি করে যাওয়া শিমুল বাগান। সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের আনাগোনায় ব্যস্ত ছিল এ স্থানটি।

জানা যায়, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জাদুকাটা নদীর নিকটবর্তী মানিগাঁও গ্রামে প্রায় ১০০ বিঘার বেশি জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা এক শিমুল গাছের বাগান। ২০০৩ সালে ২ হাজার ৪০০ শতক জমিতে তিন হাজার শিমুল গাছ লাগান জয়নাল আবেদীন। বসন্তকালে শিমুল বাগানের দিকে তাকালে গাছের ডালে ডালে লেগে থাকা লাল আগুনের ঝলকানি চোখে এসে লাগে। শিমুল ফুলের রক্ত লাল পাপড়িগুলো এ সৌন্দর্য এখানে আসা মানুষের মনকে রাঙিয়ে দেয়। একদিকে মেঘালয়ের পাহাড় সারির অকৃত্রিম সৌন্দর্য, অন্যদিকে রূপবতী জাদুকাটা নদীর তীরে শিমুল বাগানের তিন হাজার গাছে লাল ফুলের সমাহার শরীরে ভালো লাগার শিহরণ ধরিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

shimul-bon

সরেজমিনে শুক্রবার সকালে শিমুল বাগানে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছে হাজারো মানুষ। ভালোবাসা দিবস ও ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নিতে কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা স্বামী ও স্ত্রী এবং এসেছেন প্রেমিক-প্রেমিকারা। সব মিলিয়ে শিমুল ফুলের রক্তিম আভার সৌন্দর্য উপভোগ করতেই এখানে এসেছেন তারা। বর্তমানে আগের চেয়ে বাগানের রক্ষণাবেক্ষণেও গুরুত্ব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পর্যটকদের বসার জায়গা থেকে শুরু করে খাবারের জন্য রাখা হয়েছে ক্যান্টিন। তাছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাখা হয়েছে নিরাপত্তা প্রহরী। শিমুল ফুলের সঙ্গে নিজেকে কিছু সময় কাটানো এবং সেই ফুলের সঙ্গে ছবি তোলার জন্যও রয়েছে ফটোগ্রাফার এবং ছোট ছোট শিশুদের তৈরি করা ভালোবাসার প্রতীকগুলোও অন্যরকম নজর কাড়ে পর্যটকদের।

ঢাকা থেকে আসা ফখরুল আলম বলেন, ফেসবুকে শিমুল বাগান দেখে এখানে আসা। ফেসবুকে যেরকম দেখেছি বাস্তবে তার থেকেও কিন্তু বেশি সুন্দর এ শিমুল বাগান। এখানে আসলে অবশ্যই মন ভালো হয়ে যাবে যে কারো।

shimul-bon

মানজিম আহমেদ বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী প্রথমবার সুনামগঞ্জে এলাম। সুনামগঞ্জে আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল এই শিমুল বাগান। এখনও ফুলগুলো ভালোভাবে না ফুটলেও সত্যিই জায়গাটা অনেক সুন্দর। যে মানুষটি এ কাজ করে গেছেন তার প্রশংসা করতেই হয়।

shimul-bon

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী লিপি সরকার বলেন, একদিকে ভারতের মেঘালয় পাহাড়, অন্যদিকে জয়নাল আবেদীনের গড়ে যাওয়া শিমুল বাগান সত্যিই বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি। এই জায়গার গল্প শুনেছিলাম বন্ধুদের কাছে। আজকে বাস্তবে দেখে নিলাম। ভবিষ্যৎতে আমি আবারও সুনামগঞ্জ আসবো শুধু শিমুল বাগানের জন্য।

shimul-bon

বাগানের মালিক জয়নাল আবেদীনের মেয়ে জেলা পরিষদ সদস্য সেলিনা আবেদীন বলেন, আমার বাবা প্রকৃতিপ্রেমী ছিলেন। এশিয়ার সর্ববৃহৎ এ শিমুল বাগানটি তিনি নিজে গড়ে গেলেও তার সৌন্দর্য তিনি উপভোগ করতে পারেননি। আমরা এখানে পর্যটকদের জন্য বসার জায়গা, খাওয়ার জায়গা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও করেছি। পর্যটকরা যেন এখানে এসে হাসি খুশি থাকতে পারেন এবং শহরের জীবনের ব্যস্ততা থেকে নিজেকে কয়েক মুহূর্তের জন্য দূরে রাখতে পারেন সেজন্য আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।

মোসাইদ রাহাত/এমএএস/পিআর