পুরো বাড়িটাই যেন মৌমাছির!
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পালাখাল মডেল ইউনিয়নের আইনপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লিয়াকত আলী তালুকদারের দোতালা বাড়িটি গত ৮ বছর যাবত মৌমাছিদের দখলে। দূর থেকে বাড়িটি দেখলে মনে হয় যেন মৌমাছির বাড়ি। তবে এসব মৌমাছি কখনও কাউকে আক্রমণ করেনি। প্রথম প্রথম এই মৌচাক দেখে পরিবারের সবাই আতংকিত থাকলেও এখন আর কেউ ভয় পায় না। বরং নিয়মিত মধু সংগ্রহ করে আনন্দিত তারা।
প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ মধু আহরণ করে লেয়াকত আলীর পরিবার। পরিবারের চাহিদা পূরণ করে মধু বিক্রি করেও লাভবান হচ্ছেন এ পরিবারটি।
লিয়াকত আলী ও তার স্ত্রী মনিরুন্নাহার বলেন, ২০১১ সালে তারা দোতালা ভবনটি নির্মাণ করেন। ভবনটি নির্মাণের কিছুদিন পর থেকেই মৌমাছিরা এসে তার ভবনে বাসা বাঁধে। প্রথম বছর দু’একটি করে চাক তৈরি করলেও প্রতিবছরই এই চাকের পরিমাণ বাড়তে থাকে। গত ৮ বছর ধরে তার ভবন ও ভবনের পাশের গাছে প্রায় অর্ধশতাধিক চাক বসিয়েছে মৌমাছি। বর্তমানে ওই বাড়িতে ১৪টি মৌচাক রয়েছে।

তারা জানান, প্রাকৃতিকভাবে মৌমাছির চাক বসায় তাদের বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে মৌমাছি পরিচর্যা, মধু সংগ্রহ ও সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারলে আরও বেশি পরিমাণে মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হতো।
লিয়াকত আলীর মেয়ে বিথী বলেন, মৌমাছিগুলো আমাদের পরিবারের একটা অংশ। এখান থেকে প্রতিবছর অনেক মধু সংগ্রহ করে আত্মীয়-স্বজনের মাঝে বিলি করে থাকি। এছাড়া বিক্রি করে যে আয় হয় সেখান থেকে মসজিদে ও দুস্থ-অসহায় মানুষের মাঝে যাকাত হিসেবে দান করে থাকি। সখের বশে পরিবারের সবাই মিলে বাসার ছাদে সবজি বাগানও করেছি। এখান থেকে সবজি চাহিদা মেটাতেও আমরা সক্ষম হচ্ছি।
কচুয়া উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সন্তোষ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা মৌচাকের মধুর স্বাদ এবং পুষ্টিমান অনেক ভালো। মৌমাছিদের কেউ বিরক্ত না করলে তারা এভাবেই থাকে এবং এখান থেকে বাড়ির মালিকের বাড়তি আয় হয়।
ইকরাম চৌধুরী/এফএ/পিআর