ফকিরহাটে বাস দুর্ঘটনায় আহত শিশুটির বাবা-মা কোথায়?

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ১০:০০ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২০

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাকডাঙ্গা এলাকায় দুর্ঘটনাকবলিত যাত্রীবাহী বাস থেকে একটি শিশুকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে উদ্ধার কর্মীরা। দুর্ঘটনার সময় শিশুটি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ওই বাসেই ছিল। ঘটনার পর থেকে তার স্বজনদের কোনো খোঁজ মিলছে না। সাড়ে তিন বছর বয়সী ফুটফুটে শিশুটি বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে।

ফকিরহাট হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের কর্মী মোশারেফ হোসেন জানান, শিশুটির বয়স সাড়ে ৩ বছর হতে পারে। সে তেমন কোনো কথা বলতে পারে না। বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছে।

এর আগে শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের কাকডাঙ্গা এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংর্ঘষে নারী শিশুসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।

যাত্রীবাহী রাজিব পরিবহনের বাসটি খুলনা থেকে রবিশাল যাবার পথে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে লাফিজা খাতুন নামের ৫ মাসের এক শিশুর নাম জানা গেছে। সে মাদারীপুর এলাকার লিয়াকত আলীর মেয়ে।

1bagerhat

ফকিরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনম খায়রুন আনাম ঘটনাস্থল থেকে জানান, বিকেলের দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী রাজিব পরিবহন মূলঘরের কাকডাঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে বিপরিত দিক থেকে আসা রড বোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। এসময় পরিবহনে থাকা এক নারী শিশুসহ ৩ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। অপর দুইজনকে হাসপাতালে নেয়া হলে মারা যায়। আহত হয় আরও ১৫ যাত্রীকে ফকিরহাট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও জানান নিহত অন্যদের নাম পরিচয় এ মুর্হূতে জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে ফায়ার বিগ্রেডের একটি ইউনিট পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। দুর্ঘটনার পরপরই খুলনা-মাওয়া মহাসড়কটিতে যান চলাচলা বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করার প্রায় এক ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বাগেরহাট কাটাখালী হাইওয়ে থানা পুলিশের ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে রড বোঝাই ট্রাক বাগেরহাটের দিকে যাচ্ছিল। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফকিরহাট উপজেলার কাকডাঙ্গা এলাকায় বরিশালগামী রাজিব পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় বাসটি উল্টে গিয়ে ঘটনাস্থালেই ৩ জন নিহত হয়। গুরুতর আহতদের মধ্যে হাসপাতালে নেয়ার পথে আরও ২ জন মারা যায়। নিহতরা সকলেই বাসের যাত্রী। নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, এক শিশু ও এক নারী রয়েছেন। আহতদের ফকিরহাট, গোপালগঞ্জ ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান এ কর্মকর্তা।

শওকত আলী বাবু/এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।