মাঝে মধ্যেই বাবা-মাকে মেরে হাসপাতালে পাঠায় শাহ আলম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৩:০৮ পিএম, ২৬ মার্চ ২০২০

শরীয়তপুর সদর উপজেলার আড়িগাঁও এলকায় মাদক ও জুয়া খেলার টাকা না দিলেই বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অসহায় বাবা ছেলের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিচার চেয়ে ছেলের বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এর আগে মায়ের একই ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পালং মডেল থানা পুলিশ শাহ আলমকে আটক করলে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেয় তার অন্য স্বজনরা। বাবা-মায়ের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন এ নেক্কারজনক ঘটনায় শাহ আলমকে আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচার দাবি করেছেন।

পালং মডেল থানা ও স্থানীয় ফারুক মিয়া জানান, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আড়িগাঁও গ্রামের ফজলুর রহমান বেপারীর ৪ ছেলের মধ্যে শাহ আলম বেপারী (৪২) সবার বড়। ছোটবেলা থেকেই শাহ আলম বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করতো। অনেক বছর আগে থেকে সে জুয়া খেলা ও মাদকাশক্ত হয়ে পড়ে। পরিবারের লোকজন অনেক চেষ্টা করে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়ে ছেলেকে বিভিন্ন সময় টাকা দিতে বাধ্য হয় তার বাবা। শাহ আলম বাবা ও মায়ের কাছে জুয়া ও মাদকের টাকা চেয়ে না পেলেই মাঝে মধ্যেই তাদেরকে মারধর করতো। বাবা-মা পরিবারের সম্মান বজায় রাখতে ছেলের এ নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করে আসছিল।

২০১৯ সালে ফজলুর রহমান বেপারী হজে যাওয়ার আগে তার সহায় সম্পত্তি ছেলে ও মেয়েদের নামে বন্টন করে দিয়ে যান। ছেলে শাহ আলম তার অংশ বিক্রি করে জুয়া ও মাদক কিনে শেষ করে আবার টাকার জন্য বাবা-মাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। প্রায় তিন মাস আগে তার মা রাহেলা বেগমের কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে তাকে বেধরক মারধর করে শাহ আলম। পরে রাহেলা বেগমকে তার অন্য সন্তানরা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করান। এ ঘটনার পর তার মা পালং মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই সময় পুলিশ শাহ আলমকে আটক করলে থানা থেকে মুচলেকার মাধ্যমে ছাড়িয়ে নেয় তার অন্য স্বজনরা। এখানেই শেষ নয়। শাহ আলম ছাড়া পেয়ে পরিবর্তন না হয়ে আরও বেপোরায়া হয়ে ওঠে।

গত ২২ মার্চ আবার শাহ আলম তার বাবার কাছে টাকা চায়। বাবা ফজলুর রহমান টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে সে। তখন পরিবারের লোকজন ফজলুর রহমানকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। তিনি হাসপাতালে তিনদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর বাবা ফজলুর রহমান ছেলে শাহ আলমের বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনার পর থেকে শাহ আলম পলাতক রয়েছে।

ছেলের হাতে নির্যাতিত বাবা ফজলুর রহমান বেপারী বলেন, আমার বড় ছেলে শাহ আলম দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকাসক্ত ও জুয়া খেলার সাথে জড়িত। আমরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারিনি। আমি হজে যাওয়ার পূর্বে আমার ৪ ছেলে ও ৫ মেয়েকে সকল সম্পতি ভাগবাটোয়ারা করে দিয়ে যাই। শাহ আলম তার প্রাপ্ত অংশ বিক্রি করে একই পথে সমস্ত টাকা শেষ করে আবারও আমার কাছে টাকা দাবি করে। গত ২২ মার্চ আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করলে আমি দিতে না পারায় সে আমাকে মারধর করে। এর আগে টাকার জন্য আমার স্ত্রীকেও মারধর করে ছেলে শাহ আলম। আমি ছেলের নির্যাতন ও অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।

প্রতিবেশী শহীদুল ইসলাম ও আবু হালেম জাগো নিউজকে বলেন, জুয়ার টাকার জন্য শাহ আলম তার বৃদ্ধ বাবা মাকে মাঝে মধ্যেই মারধর করে। বাবা-মাকে মারধর করা চরম অন্যায়। শাহ আলমের সঠিক বিচার হওয়া উচিত।

স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ফকির বলেন, শাহ আলম তার বাবাকে মারধর করার আগে তার মাকেও মারধর করেছে। এটা দুঃখ ও নেক্কারজনক ঘটনা। আমরা তখন তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেই। এর একদিন পরেই তার আত্মীয় স্বজনরা তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। গত রোববার আবার তার বাবাকে মারধর করে শাহ আলম। আমি তার বাবাকে দেখতে যাই। আমি থানা পুলিশের সাথে কথা বলেছি, শাহ আলমের যেন সঠিক বিচার হয়।

পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে তার বাবা একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে। এ ঘটনার পর থেকে শাহ আলম পলাতক রয়েছে। আমরা তাকে আটক করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

ছগির হোসেন/এমএএস/এমকেএইচ