ঠাকুরগাঁওয়ে আইসোলেশন ইউনিটে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০৯:৩৪ পিএম, ৩০ মার্চ ২০২০

ঠাকুরগাঁওয়ে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্ধারিত আইসোলেশন ইউনিটে শ্বাসকষ্ট ও হৃদযন্ত্রের জটিলতা নিয়ে এক মৃক্তিযোদ্ধার (৬৫) মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) মধ্য রাতে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ওই মুক্তিযোদ্ধা মারা যান। তার বাড়ি সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রামে।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ চপল জানান, ওই ব্যক্তিকে ভুল করে আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়েছিল।

সদর হাসপাতালের সামনে ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০ শয্যা বিশিষ্ট করোনাভাইরাস সংক্রান্ত রোগীদের জন্য আইসোলেশন ইউনিট করা হয়েছে। এ ইউনিটে এখন পাঁচজন চিকিৎসাধীন। যাদের রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে হাসপাতলের জরুরি বিভাগে গিয়ে জানা যায়, রাত ২টা ১০ মিনিটে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ওই মুক্তিযোদ্ধা। এরপর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে আইসোলেশন ইউনিটে পাঠানো হয়। আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তির আধা ঘণ্টা পর মৃত্যু হয় তার।

ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজুর রহমান সরকার বলেন, রাতে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধ মারা যান। তার হৃদযন্ত্রে সমস্যা ছিল। আইসোলেশন ইউনিটে তাকে নেয়া হয়নি, হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়েছে।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ চপল জানান, ওই ব্যক্তি হৃদযন্ত্র ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে রাত ২টা ১০ মিনিটে ভর্তি হন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে এককভাবে হাসপাতালের ওয়ার্ডে আইসোলেটেড করে রাখতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ভুলবশত তাকে করোনাভাইরাসের আইসোলেশনে ইউনিটে নেয়া হয়। আইসোলেশন ইউনিটে রাত ৩টার দিকে মারা যান তিনি। তারপর স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যান। করোনাভাইরাসের সঙ্গে উনার কোনো সম্পর্ক নেই।

মৃত ওই মুক্তিযোদ্ধার ছেলে আল মাসুদ বলেন, আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। উনার আগে থেকেই হৃদযন্ত্র ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। রাতে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাকে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নেয়ার আধা ঘণ্টা পর তিনি মারা যান। বিকেল ৪টার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাবার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।