সুপেয় পানির সংকটে দুর্গম দুমদম্যার ১২ হাজার মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাঙ্গামাটি
প্রকাশিত: ০৮:০৮ পিএম, ২৯ মে ২০২০

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলার দুর্গম দুমদুম্যা ইউনিয়নের প্রায় ১২ হাজার মানুষ সুপেয় পানির সংকটের মধ্য দিয়ে দিন যাপন করছেন। এই ইউনিয়নের বাসিন্দারা পাহাড়ি ছড়া ও কুয়ার পানি পান করে থাকেন সারাবছর। কিন্তু গ্রীষ্মের শেষে ছড়ার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এবং বর্ষার শুরুতে বৃষ্টির পানি ছড়া হয়ে ময়লা-আবর্জনা নিয়ে কুয়াতে প্রবেশ করায় সে পানি পানেরও অনুপযোগী হয়ে যায়। ফলে প্রতিবছরের গ্রীষ্মের শেষ ও বর্ষায় বৃষ্টি শুরুর মৌসুমে এ এলাকায় দেখা যায় সুপেয় পানির সংকট।

রাঙ্গামাটি জেলা শহরের সাথে কোনো সড়কপথ নেই জুরাছড়ি উপজেলার। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌপথ। চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলাটি। এই উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন হচ্ছে দুমদম্যা। ইউনিয়নটিতে উপজেলা সদর থেকে দুর্গম পাহাড়ি পথ বেয়ে যেতে সময় লাগে প্রায় তিন থেকে পাঁচ দিন। উপজেলাটির বাকি তিন ইউনিয়নের চেয়ে বেশি জায়গা নিয়ে গঠিত দুমদম্যা ইউনিয়নটি। এতে বসবাস করেন প্রায় ১২ হাজার মানুষ। প্রতিবছর এ মানুষগুলোর সুপেয় পানির সংকট দেখা দিলেও আজ পর্যন্ত তা সমাধানে এগিয়ে আসেনি কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

এই ইউনিয়নের মানুষ সুপেয় পানির এমন সংকট নিরসনে দ্রুত গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন।

এ বিষযে যোগাযোগ করলে জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুর রহমান জাগোনিউজকে জানান, দুমদম্যা ইউনিয়নটি যেমন দুর্গম তেমনি বড়। উপজেলাটির বাকি তিন ইউনিয়নের সমান এই ইউনিয়নটি। দুর্গম বলে সেখানে গভীর নলকূপ স্থাপন সম্ভব হয়ে উঠেনি। যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে এলাকাটিতে বসবাসরত বাসিন্দারা। আশার বিষয় ইউনিয়নটির বগাখালিতে একটি নলকূপের ব্যবস্থা এডিবির অর্থায়নে উপজেলা পরিষদ থেকে আমরা করছি, আশা করি কিছু দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

তবে বাসিন্দারা বলছেন, একটি নলকূপে এতো বড় ইউনিয়নে কিছুই হবে না। সেখানে আরও গভীর নলকূপ স্থাপনের প্রয়োজন এই বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে।

জুরাছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা জানান, দুমদম্যা ইউনিয়নে প্রতিবছর গ্রীষ্ম ও বর্ষা দুই মৌসুমে মূলত খাবার পানির সংকট দেখা দেয়। সেখানে বসবাসকারীরা ছড়া ও কুয়া থেকে পানি পান করে থাকেন। কিন্তু গ্রীষ্মকালে ছড়া ও কুয়ার পানি শুকিয়ে যায় এবং বর্ষাকালে পাহাড় থেকে ময়লা-আবর্জনা পানির সাথে ভেসে এসে কুয়ার মধ্যে পড়ে, যার কারণে সে সময় কুয়ার পানিও পান করা যায় না। তখন বাসিন্দারা বৃষ্টির সময় কলসীর ওপর পাতা দিয়ে খাবার পানি সংগ্রহ করেন, যা অনেক কষ্টকর। আমরা একটি নলকূপ বসানোর ব্যবস্থা করেছি, কিন্তু সেটা দিয়ে বেশিদূর পানি সরবরাহ করা সম্ভব নয়। সেখানে পাথরের কারণে রিংওয়েল বসানো কঠিন, আরও গভীর এবং একাধিক নলকূপের প্রয়োজন এলাকাটিতে।

রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে মনে হয় সেখানে কয়েকটা রিংওয়েল করা হয়েছিল। তবে দুর্গম এলাকা বলে সেখানে উপকরণগুলো নেয়া কষ্টসাধ্য। স্বাভাবিক বরাদ্দে সেখানে নলকূপ বসানো সম্ভব নয়। যদি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে সেখানকার স্থানীয়রা আবেদন করেন তাহলে আমরা বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে সেখানে রিংওয়েল করে দেয়ার ব্যবস্থা নেবো।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের জুরাছড়ি উপজেলার দায়িত্বে থাকা সদস্য জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দুমদম্যা ইউনিয়নে খাবার পানির সঙ্কট এবং সেখানে কোনো নলকূপ আছে কি-না সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। খবর নিয়ে তিনি দেখবেন বলেও জানান।

এইচএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]