২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ২২ হাজার গাড়ি পারাপার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৮:৫১ পিএম, ৩০ মে ২০২০

মহাসড়কে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় কর্মস্থলে যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। এতে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব মহাসড়কে বেড়েছে পিকআপ, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা।

গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ২২ হাজার গাড়ি পারাপার হয়েছে। এতে সেতুতে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৩০ লাখ টাকার অধিক।

Tangail-Hiway

বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানা যায়, শুক্রবার (১৯ মে) সকাল ৬টা হতে শনিবার (২০ মে) সকাল ৬টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, পিকআপ, মোটরসাইকেল, পণ্যবাহী ট্রাকসহ ছোট ছোট ট্রাক মিলিয়ে সেতু পারাপার হয়েছে ২২ হাজারের অধিক গাড়ি। এরমধ্যে মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার ৮ হাজার, মোটরসাইকেল ৭ হাজার আর পিকআপসহ পন্যবাহী ট্রাকসহ ছোট ছোট ট্রাক পারাপার হয়েছে ৭ হাজার।

শনিবার (২০ মে) সরেজমিনে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব মহাসড়কের সেতু গোলচত্বর ও এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড গিয়ে দেখে গেছে, শত শত মানুষ কর্মস্থলে যেতে সেখানে ভিড় করছেন। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে মানুষ কর্মস্থলে পৌঁছাতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস আর পিকআপে যাচ্ছেন।

Tangail-Hiway

এরমধ্যে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে অনেককে যেতে দেখা গেছে। এছাড়াও মহাসড়কে অনুমোদনহীন সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাযোগে গন্তব্যে যাচ্ছেন মানুষ। তবে কারোর মধ্যেই সামাজিক দূরত্ব নেই। গাদাগাদি করে পিকআপ, মাইক্রোবাসে যাচ্ছেন তারা। তবে মহাসড়কের ভুঞাপুর লিংকরোডে হাইওয়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কাজ করছে। ঝুঁকি নিয়ে পিকআপে করে যাওয়া মানুষজনকে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে পথেমধ্যেই।

সরকার ঘোষিত দীর্ঘ দুই মাসের সাধারণ ছুটি শেষ হয়েছে শনিবার। ছুটি শেষ হওয়ায় বিভিন্ন মাধ্যমে আর করোনাভাইরাসের ঝুঁকি নিয়েই কর্মস্থলে যোগ দিতে পরিবার পরিজন নিয়ে হাজারে হাজার মানুষ যাচ্ছেন ঢাকায়। যদিও গণপরিবহন বন্ধ তারপরও চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে বিপাকে পড়েও কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে তাদের।

Tangail-Hiway

অপরদিকে রয়েছে বাড়তি ভাড়ার ভোগান্তি। যে যেমন পারছেন অসহায় এ মানুষজনের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিয়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন।

এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী যাবেন ফরহাদ হোসেন নামের এক গার্মেন্টকর্মী। অপেক্ষায় আছেন কম ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছাতে। তাতে তার সময় কেটে যায় দুই ঘণ্টা। ততক্ষণে কোনো যান পাননি তিনি।

এসময় তিনি বলেন, ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরছি। যে টাকা হাতে ছিল সেটা বাড়িতেই খরচ হয়ে গেছে। অন্যের কাছ থেকে ধার-দেনা করে অল্প টাকা নিয়ে বের হয়েছি কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে এসে দেখি অনেক বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতো টাকা আমার কাছে নেই।

Tangail-Hiway

কর্মস্থলে যেতে অপেক্ষারত অনেকেই বলেন, ধারণক্ষমতার অধিক যাত্রী বহন করায় চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি মাথায় নিয়েই জীবন-জীবিকার তাগিদে ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে। যেকোননো মাধ্যমেই হোক কর্মস্থলে পৌঁছাতে হবে। নইলে চাকরি টেকানো খুব কঠিন হয়ে পড়বে। ঝুঁকি নিয়ে কম ভাড়ায় পিকআপে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। অনেকেই দুইজনে মিলে একটা মোটরসাইকেল ভাড়া করে যাচ্ছেন।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল হোসেন বলেন, শনিবার সকাল থেকেই মহাসড়কে ছোট ছোট যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ ছাড়াও টাঙ্গাইলের আশপাশের জেলার মানুষজন এ মহাসড়ক ব্যবহার করে কর্মস্থলে যাচ্ছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। এতে মহাসড়কে প্রাইভেটকার, পিকআপ, পণ্যবাহী ট্রাক, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোর সংখ্যা বেশি। তবে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মহাসড়কের ভুঞাপুর লিংঙ্করোড এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে মানুষের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে।

আরিফ উর রহমান টগর/এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।