অভাব জয় করে জিপিএ-৫, কলেজে পড়ার খরচ নিয়ে চিন্তায় আসমানী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ১১:০১ এএম, ০৩ জুন ২০২০

অভাবের সংসারে ঠিকমতো দুবেলা দুমুঠো খাবারই জোটেনি মেধাবী শিক্ষার্থী আসমানীর। এমনকি জোটেনি ভালো পোশাকও। সহপাঠীরা সবাই গাড়িতে করে স্কুলে আসা-যাওয়া করলেও দিনমজুর বাবার পক্ষে গাড়ি ভাড়ার টাকা দেয়া সম্ভব হতো না। তাই বাড়ি থেকে প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে স্কুলে গিয়ে ক্লাস করতে হয়েছে তাকে। এসব অভাবকে জয় করে এ বছর এসএসসিতে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে আসমানী।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ডাউটি গ্রামের ওলিয়ার মোল্যার মেয়ে ও কোলাবাজার ইউনাইটেড হাই স্কুলের শিক্ষার্থী আসমানী খাতুন। মেয়ের এমন ভালো ফলাফলে হতদরিদ্র বাবা-মা খুশি হলেও কীভাবে মেয়েকে কলেজে পড়ানোর খরচ জোগাবেন তা নিয়ে পড়েছেন চিন্তায়।

সরেজমিনে হতদরিদ্র মেধাবী আসমানীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটুখানি জমির ওপর ভাঙাচোরা মাটির দেয়াল ও বেড়ার একটি ঘর। এর পাশেই রয়েছে ছনের ছাউনি ও পাটকাঠি দিয়ে ঘেরা আরেকটি ঝুপড়ি ঘর। সেখানে মা-বাবা ও ছোট এক ভাইকে নিয়ে আসমানীর বাসবাস।

আসমানীর বাবা ওলিয়ার রহমান মোল্যা জানান, প্লাস ( জিপিএ-৫) কি আমি বুঝি না। তবে এলাকার মানুষ বলছে আমার মেয়ে ভালো ফল করেছে, প্লাস পেয়েছে।

তিনি বলেন, দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে বড় মেয়ে রিক্তা খাতুনকে বিয়ে দিয়েছি অনেক আগেই। আর ছেলে সাব্বির হোসেন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। বসতবাড়ির ৫ শতক জমি ছাড়া মাঠে কোনো চাষযোগ্য জমি নেই। সারা বছর পরের ক্ষেতে কামলার কাজ করে সংসার চালাতে হয়। তারপরও সব সময় কাজ থাকে না। অভাবের সংসারে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ ঠিকমতো জোগাড় করতে পারিনি। টাকার অভাবে মেয়ের ভালো পোশাক ও স্কুলে যাওয়া-আসার খরচ দিতে পারিনি। এখন শুনছি মেয়ে পরীক্ষায় ভালো করেছে। কিন্তু কীভাবে কলেজের খরচ আসবে এখন সে চিন্তাই করছি।

আসমানীর ভাষ্য, আমার বাবা-মা লেখাপড়া জানেন না। তারপরও তারা আমাকে লেখাপড়া শেখাতে যে কষ্ট করেন তা দেখে আমার নিজেরই খারাপ লাগে। বাবা-মায়ের এমন চেষ্টায় আমার নিজের ভেতরেও সব সময় পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য জিদ কাজ করত। তাই বেশি করে পড়াশোনা করতাম। এখন কলেজে ভর্তি হয়ে কীভাবে লেখাপড়ার খরচ আসবে সে চিন্তায় পড়েছি পরিবারে সবাই।

প্রতিবেশীরা জানান, দরিদ্র ওলিয়ারের মেয়ে আসমানী এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। অন্যের জমিতে কাজ করে অতি কষ্টে সংসারসহ ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন ওলিয়ার। নুন আনতে পান্তা ফুরায় তাদের সংসারে। লেখাপড়ার খরচ জোগানোর তেমন সাধ্য ছিল না বাবা ওলিয়ারের। তারপরও অনেক কষ্টে মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

কোলাবাজার ইউনাইটেড হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল ওহাব জোয়ার্দার জানান, হতদরিদ্র বাবার মেয়ে আসমানী অত্যন্ত ভদ্র। বিদ্যালয়ে এসে সে সব সময় চুপচাপ থাকত। তবে ক্লাসে সব সময় থাকত মনোযোগী। আসমানী জিপিএ-৫ পাওয়ায় বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-কর্মচারী খুশি।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ/আরএআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]