ভারতে গরুচোর সন্দেহে বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৫:২১ পিএম, ০৩ জুন ২০২০

ভারত সীমান্তের ভেতর গরুচোর সন্দেহে বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ভারতীয়রা। এ সময় গুরুতর আহত একজনকে ভারতের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তির খবর পাওয়া গেছে। নিহতের লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩১ মে ভারতের করিমগঞ্জের পাথারকান্দি থানাধীন পুতনি চা-বাগানে গরুচোর সন্দেহে চারজনকে পাকড়াও করে স্থানীয় জনগণ। ঘটনাস্থলেই একজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলে এলাকাবাসী ও অন্য তিনজন আহত হয়।

মৃত ব্যক্তির নাম রনজিত রিকমন (৩৬)। তিনি মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ধামাই বাজার টিল্লা এলাকার রশিক লাল রিকমুনের ছেলে। আহতদের একজন একই জেলার জুড়ী উপজেলার কুচাই চা বাগানের মৃত গাজু মুন্ডার ছেলে মলোন মুন্ডা (৪০)। অন্য দুইজন ভারতীয় বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর পাথারকান্দি পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আহতদের পাথারকান্দি সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় ও নিহতের লাশ হাসপাতালে রাখা রয়েছে।

ভারতীয় সীমান্তবর্তী বিএসএফ জুড়ী লাঠিটিল্লা বিজিবি ক্যাম্পে এ খবর জানালে এলাকায় তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর বিএসএফের দেওয়া তথ্যে নিহত ব্যক্তির নাম রুবেল থাকার কারণে বিজিবি পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে বুধবার তাদের ছবি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে গিয়ে পুলিশ পরিচয় শনাক্ত করে।

বিজিবির বরাত দিয়ে জুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিচয় শনাক্ত করতে সমস্যা হচ্ছিল কারণ বিজিবিকে একেকবার একেক ঠিকানা দিয়েছিল বিএসএফ। পরে আমরা ছবি নিয়ে এলাকায় ঘুরে বুধবার তাদের পরিচয় শনাক্ত করেছি। লাশ এবং আহত বাংলাদেশিকে ফেরত আনার জন্য বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বিজিবি। যেকোনো মুহূর্তে লাশ আসতে পারে।

লাটিটিলা বিজিবি ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার জাকির হোসেন জানান, পরিচয় খুঁজতেই আমাদের তিনদিন চলে যায়। কারণ বিএসএফ থেকে প্রাপ্ত ঠিকানা ভুল ছিল। তাই কাউকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আজ আমরা পরিচয় নিশ্চিত হয়েছি। লাশ দ্রুত আনার ব্যবস্থা হচ্ছে।

রিপন দে/এফএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]