ধার করা টাকা দিয়ে ভিজিডির চাল নিলেন বিধবা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০২:৫৬ পিএম, ০১ জুলাই ২০২০

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খাঁনমরিচ ইউনিয়নে দুস্থদের মধ্যে ভিজিডির চাল বিতরণে জনপ্রতি একশ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গাড়িভাড়ার নামে তাদের কাছ থেকে গ্রাম পুলিশ দিয়ে টাকা নেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) খাঁনমরিচ ইউনিয়ন পরিষদে ৫২১ জন কার্ডধারীর মাঝে চাল বিতরণের আগে এ ঘটনা ঘটে। তবে খাঁনমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাটি শোনার পরই টাকা আদায় বন্ধ করে দেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও) সূত্র জানায়, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের ভিজিডি কার্যক্রমের বরাদ্দকৃত চাল ৫২১ জন কার্ডধারীর জন্য উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলন করেন ইউপি চেয়ারম্যান আছাদুর রহমান। ওই চাল পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বিলি করা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় কার্ডধারীর কাছ থেকে চাল আনতে পরিবহন খরচ বাবদ ১০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন বেশ কিছু কার্ডধারী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কার্ডধারী এক বয়ষ্কা বিধবা বলেন, মাইকিং করে এবং গ্রাম পুলিশ বাড়িতে পাঠিয়ে পরিবহন খরচের জন্য ১০০ টাকা আনতে বলা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি দিন আনি দিন খাই। আমার টাকা কামানোর কোনো সামর্থ্য নাই। আমি ১০০ টাকা কই পাব। দু’মুঠো খেতে হবে তাই খুব কষ্টে দেনা করে ১০০ টাকা জোগাড় করে দিয়েছি।’

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন শ্রীপুর গ্রামের ইউপি সদস্য শরীফ উদ্দিন জিন্নাহ। তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে চাল বিতরণকালে কার্ডধারীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে পরিবহন খরচ বাবদ আদায় করা হয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আছাদুর রহমান বলেন, কার্ডধারীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার কথা শুনেই আমি তা বন্ধ করে দিয়েছি। আমার নাম ভাঙিয়ে কেউ এ কাজ করলে করতে পারে। এরসঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাসনাত জাহান বলেন, কার্ডধারীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। পরিবহন খরচ সরকারিভাবে পরিশোধ করা হয়। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যাবে। চাল বিতরণের সময় কোনো ট্যাগ অফিসারও দায়িত্বে ছিলেন না।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাকি বিল্লাহ এ ঘটনা শুনে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সুফলভোগী নারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় দুঃখজনক ও আইনত অন্যায়।

এফএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]