কুড়িগ্রামে বন্যায় ১৪০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৯:৩৫ পিএম, ১২ আগস্ট ২০২০

কুড়িগ্রামে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন বানভাসি কৃষকরা। চলতি মৌসুমে দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদেরকে। ফসল ঘরে তুলতে না পেরে হতাশায় ভুগছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় জেলায় ১৭ হাজার ৫৫৬ হেক্টর আবাদি জমির ফসল সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়। এর মধ্যে নষ্ট হয়ে যায় ১১ হাজার ৬৬২ হেক্টর জমির ফসল। এতে এক লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৮ জন কৃষকের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় পাট, আউশ ধান, আমন বীজতলা ও শাক-সবজির।

Kurigram-flood03.jpg

চার হাজার ৫৩০ হেক্টর জমির পাট, চার হাজার ৪৩০ হেক্টরের আউশ ধান, এক হাজার ৭১ হেক্টরের আমন বীজতলা, ৯৫৩ হেক্টরের শাক-সবজি, ৩০২ হেক্টরের তিল, ২০৫ হেক্টরের মরিচ, ১৪০ হেক্টরের চিনা বাদাম, ২০ হেক্টরের কাউন ও ১৪ হেক্টর জমির ভুট্টার ক্ষতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যেসব কৃষক বেসরকারিভাবে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন তারা চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন। কিস্তি দিতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন তারা।

কৃষি বিভাগ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারিভাবে সহযোগিতা করার জন্য ১০৫ একর কমিউনিটি বীজতলা, শতাধিক ভাসমান বীজতলা ও ১১২টি ট্রে বীজতলা করে মাত্র সাত হাজার ৬৭ জন কৃষককে সহযোগিতা করা হবে। এছাড়াও এক হাজার ২০০ বিঘা জমিতে মাসকালাই চাষ কার্যক্রমের মাধ্যমে এক হাজার ২০০ জন চাষি উপকৃত হবেন।

Kurigram-flood03.jpg

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান জানান, এবার দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। আমন বীজতলা ছাড়াও করোনাকালীন এবং বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ২৭ হাজার ৭৬১জন সবজি চাষিকে পর্যায়ক্রমে প্রণোদনার আওতায় আনা হচ্ছে।

নাজমুল হোসাইন/আরএআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]