বছরের পর বছর বঙ্গবন্ধুর জন্য পূজা করছেন যামিনী বালা

সফিকুল আলম
সফিকুল আলম সফিকুল আলম , জেলা প্রতিনিধি পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ০৯:৫৮ এএম, ১৯ আগস্ট ২০২০

অডিও শুনুন

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভক্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যামিনী বালা সেন। ৭৫’র কালো রাতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর থেকেই প্রতি বছর শোকের মাসে ভিন্ন আঙ্গিকে ভক্তিপূর্ণ শোক পালন করে আসছেন তিনি। বার্ধক্যের কারণে বতর্মানে মৃত্যু শয্যায় যামিনী। তবুও তার নির্দেশনায় এবারও শোকের মাসে আয়োজন করা হয় ভক্তিপূর্ণ বিশেষ প্রার্থনার।

কোনো চাওয়া নেই তার। কেবল বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা থেকে বছরের পর বছর এই আয়োজন করে আসছে তার পরিবার। তার শুধু একটাই শখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একবার কাছ থেকে দেখার।

যামিনী বালা সেনের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের পূর্ব শিকারপুর গ্রামে। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদাররা তার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছিল। তবুও তিনি জন্মভূমির ভিটেমাটি ছাড়েননি। বর্তমানে তার বয়স ৮০ পেরিয়েছে। নানা নির্যাতন সহ্য করে মাটি কামড়ে তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে বড় করেছেন। ছোট থেকেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ছিল তার।

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলে গভীরভাবে আঘাত পান যামিনী। তারপর থেকেই প্রতি বছর পূজা অর্চনা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের শহীদদের জন্য প্রার্থনা করে আসছেন তিনি। শুরুতে নিজে নিজে করলেও ধীরে ধীরে পরিবারের সদস্যরাও তার এই বিশেষ প্রার্থনায় যোগ দেন।

zamini

বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কল্যাণ কামনায় প্রদীপ জ্বেলে দূর্বা ঘাস, ফুলসহ নানা উপকরণ দিয়ে পারিবারিকভাবে নারায়ণ পূজা করা হয়। পরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কীর্তন ও প্রসাদও বিতরণ করা হয়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এভাবে বছরের পর বছর বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা জানাচ্ছেন যামিনী বালা। তবে তাদের এসব কর্মকাণ্ড এতদিন বাইরে প্রচার হয়নি।

বর্তমানে তিনি মৃত্যু শয্যায়। জটিল রোগে ভুগছেন। মৃত্যু শয্যাতেও সন্তানদের বঙ্গবন্ধুর জন্য বিশেষ প্রার্থনা ও পূজা অর্চনার নির্দেশ দেন তিনি। সেই অনুযায়ী তার তিন ছেলে সত্যেন সেন, কমলাকান্ত সেন ও মংলা সেন সব আয়োজন করেন। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু ও তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ভক্তির শেষ নেই এই ভক্তের। জীবনে একবার দূর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেখা পেয়েছেন। মৃত্যুর আগে কাছ থেকে আরেকবার দেখার শখ তার। এছাড়া অন্য কোনো চাওয়া পাওয়া নেই তার।

কিন্তু এই চাওয়াও হয়ত পূরণ হবে না। তবুও তিনি বিছানায় শুয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি বুকে নিয়ে আশীর্বাদ জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে সন্তানদেরও এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

zamini

বিছানায় শুয়ে যামিনী বালা সেন বলেন, ‘একাত্তরে বহু নির্যাতন হয়েছে আমাদের উপর। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে, গরু ছাগলসহ সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। তবুও জন্মভিটা ছেড়ে যাইনি। বঙ্গবন্ধু আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তিনি সকল ধর্মের মানুষকে সমান চোখে দেখতেন। তাই আমি তার পরিবারের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করে আসছি। বঙ্গবন্ধুর মতো তার মেয়ে শেখ হাসিনাও সুন্দরভাবে দেশ চালাচ্ছেন। আমি তাকেও আশীর্বাদ জানাই। যেন এমনভাবেই দেশ চালাতে পারেন।

যামিনী বালার ছেলে সত্যেন সেন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আমার মায়ের ভক্তি শ্রদ্ধার শেষ নেই। তিনি নিজেই বঙ্গবন্ধুর পরিবারের মঙ্গল কামনায় পূজা অর্চনা করতেন। এখন আমরা প্রতিবছর মায়ের নির্দেশনায় এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আসছি। প্রতিবছর শোকের মাসে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নারায়ণ পূজা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

যামিনী বালার নাতি জগন্নাথ সেন বলেন, আমার ঠাকুরমার কাছ থেকেই আমরা বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা নিয়েছি। তিনি কোনো কিছুই চান না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একবার কাছ থেকে দেখার শখ তার। দুই বছর আগে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী আসলে ঠাকুরমা তাকে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি অসুস্থ থাকায় আমরা তাকে নিয়ে যেতে পারিনি। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আশীর্বাদ জানিয়েছেন। যেন তার বাবার মতো দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।

এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]