করোনায় রফতানি বাণিজ্যে আশা জাগাচ্ছে মাছ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১২:৫০ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

গত কয়েক বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে করোনাভাইরাসের কারণে ভারতের পণ্য রফতানির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। এখন গুটিকয়েক পণ্য রফতানি হচ্ছে ভারতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রফতানি হয় মাছ।

তবে অদৃশ্য করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের মাছ রফতানি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি সরকারও বঞ্চিত হয়েছে রেমিট্যান্স থেকে। তবে আশার কথা হলো- এখন আগের মতোই পুরোদমে মাছ নিচ্ছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এর ফলে আখাউড়া স্থলবন্দরের রফতানি বাণিজ্যে আশা জাগাচ্ছে মাছ। ধীরে ধীরে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকায় মাছ রফতানির পরিমাণ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার রড, সিমেন্ট, পাথর, প্লাস্টিক, মাছ, তুলা, ভোজ্য তেল ও খাদ্যসামগ্রীসহ অর্ধশত পণ্য রফতানি হতো। কিন্তু গত তিন-চার বছর ধরে ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে অন্যান্য রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি কমিয়ে দেন সেখানকার বড় ব্যবসায়ীরা।

সবচেয়ে বেশি চাহিদা সম্পন্ন পাথর এখন শিলং থেকেই সংগ্রহ করছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। রড-সিমেন্ট আমদানিও কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও নানা অজুহাত দেখিয়ে প্রায়ই বন্ধ করে দেয়া হয় মাছ আমদানি। অনেক সময় মাছ আগরতলা স্থলবন্দরে যাওয়ার পরও ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সেই মাছ নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তখন বন্দরেই পচে নষ্ট হয় সব মাছ। এতে বিপুল অংকের লোকসান গুনতে হয় রফতানিকারী ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানকে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা জানান, ত্রিপুরার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের কারণে রফতানির পরিমাণ কমে যাওয়ার পরও গড়ে এক থেকে দেড় কোটি টাকার পণ্য রফতানি হতো ভারতে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর রফতানির পরিমাণ একেবারেই কমে গেছে। এখন গড়ে প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার ভোজ্য তেল, সিমেন্ট, মাছ, তুলা ও খাদ্যপণ্য যাচ্ছে ভারতে।

এদিকে গত ২৪ মার্চ থেকে মাছ আমদানি বন্ধ করে দেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। তিন মাসেরও বেশি সময় বন্ধ রাখার পর গত ২৯ জুন থেকে আবারও তারা মাছ আমদানি শুরু করলেও পরিমাণ আগের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে রফতানির পরিমাণ আগের মতো হওয়ায় আশায় বুক বাঁধছেন ব্যবসায়ীরা।

আখাউড়া স্থলবন্দরের কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী জানান, ইলিশ ও চিংড়ি মাছ ব্যতীত সব প্রজাতির মাছ ভারতে রফতানি করার অনুমতি রয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ টন মাছ রফতানি করা হতো। রফতানিকৃত এসব মাছের মধ্যে ৬০ শতাংশই তেলাপিয়া ও পাঙাস মাছ। বাকি ৪০ শতাংশ মাছ বিভিন্ন প্রজাতির। ছোট-বড় সব আকারের প্রতি কেজি মাছের গড় মূল্য ২.৫ মার্কিন ডলার। এখন রফতানি কার্যক্রম ধীরে ধীরে পূর্বের অবস্থার ফিরে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে গড়ে প্রতিদিন ৬০ টন মাছ রফতানি হচ্ছে ভারতে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজীব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের বন্দরের রফতানি বাণিজ্য অর্ধেকে নেমে এসেছে। প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক পণ্য যাচ্ছে ভারতে। তবে গত কয়েকদিন ধরে আশার আলো দেখাচ্ছে মাছ। এছাড়া সামনে শীত মৌসুম হওয়ায় মাছের চাহিদা আরও বড়বে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের মাছ রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক মিয়া বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে তিন মাসে আমরা প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের মাছ রফতানি করতে পারিনি। এতে করে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মৎস্য চাষিরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারণ ভারতে রফতানির জন্য আমাদের অঞ্চলের চাষিদের কাছ থেকেই অধিকাংশ মাছ সংগ্রহ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, রফতানি বন্ধ থাকায় চাষিরা তাদের উৎপাদিত মাছ বিক্রি করতে পারেননি। রফতানি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ টন মাছ রফতানি হয়ে আসছিল। এখন প্রতিদিন আগের মতো গড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টন মাছ রফতানি হচ্ছে।

আজিজুল সঞ্চয়/আরএআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]