আমি তাকে হাশরের মাঠেও ক্ষমা করব না

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৭:৩৭ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

বন্ধুর বেঈমানিতে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন অনার্স পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ১টার দিকে কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

আত্মহত্যাকারী সাহেদুল ইসলাম (২১) পিএমখালী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের জুমছড়ি এলাকার রমজান আলী মেম্বারের ছেলে। তিনি রামু সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তার ভাই মোশারফ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাহেদ অসুস্থতায় ভুগছিল। পরিবার তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামেও নিয়ে যায়। সেখানে বিভিন্ন টেস্ট (পরীক্ষা) করালে তার শরীরে তেমন কোনো সমস্যা নেই বলে চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন। এরপর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সাহেদ। হঠাৎ শুক্রবার রাতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বিষপান করেন তিনি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাহেদ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, এর নাম সোহেল। আইডির নাম, চামি চুমির। একসময় সোহেল আমার বন্ধু ছিল, আর আমার কাছাকাছি থেকে আমাকে মেরে ফেলার জন্য, বৈদ্য থেকে সে জাদু টোনা (ওষুধ) করছে আমাকে। আমি দুই বছরের বেশি সময় ধরে অনেক কষ্ট পাচ্ছি। একেকটা রাত আমার জন্য একেকটা কেয়ামত। আমি আর সহ্য করতে পারছি না, তাই আত্মহত্যা করলাম। আমার মৃত্যুর জন্য সোহেলই দায়ী। আপনারা তাকে ছাড়বেন না। আমি কাপুরুষ নই, আমি কষ্ট আর সহ্য করতে না পারায় আত্মহত্যা করলাম। এখানে আমার পরিবারের কোনো দায় নেই। গত ১৫ দিনে আমার পরিবার চিকিৎসার জন্য এক লাখ টাকা খরচ করছে। তারা আমার জন্য অনেক কষ্ট করছে। আপনারা সবাই আমাকে ক্ষমা করে দেবেন, আল্লাহ হাফেজ, বিদায় পৃথিবী। আমি তাকে হাসরের মাঠেও ক্ষমা করবো না।

মোশারফ বলেন, শাহেদ ফেসবুকে আত্মহত্যার ঘোষণা দেয়া এ পোস্ট দেখতে পেয়ে তাকে খুঁজতে বের হন পরিবারের লোকজন। তারা তাকে বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে পড়ে থাকতে দেখেন। সেখান থেকে তাকে দ্রুত উদ্ধার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, তিনি বিষপান করেছেন।

সাহেদের ভাই মোশারফ আরও বলেন, শাহেদ কিছুদিন ধরে অবসাদে ভুগছিলেন। তাকে কয়েকজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরিক্ষা শেষে তার শরীরে তেমন কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়ে দেয়। সপ্তাহখানেক আগে মোহসিনিয়া পাড়া গ্রামের আব্বাস উদ্দিন নামের এক ওঝার কাছে নিলে তাকে জাদু-টোনা (কালা বান) করেছে বলে ওই ওঝা দাবি করেন। তখন সাহেদ ধারণা করেন সৌদিতে থাকা তার বন্ধু সোহেল এমন কাজ করেছে। হয়তো আবেগের বসে সে এমন কাজ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাহেদের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে মন্তব্য করেছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহীন আবদুর রহমান। তাকে সুস্থ করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]