সড়কে জমা আবর্জনাযুক্ত পানি যাচ্ছে সৈকতে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৭:৫৯ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
কক্সবাজারের কলাতলীর মোড়

সড়কের অবকাঠামো দৃষ্টিনন্দন করা হলেও নোংরা পানিতে একাকার হয়ে পড়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের কলাতলীর মোড়। কলাতলীর ডলফিন মোড়ের ‘জ’ ভাস্কর্য থেকে পশ্চিমে বিচ পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের হোটেলের নিষ্কাশিত নোংরা পানি সড়কে জমছে। নোংরা পানিতে ফেলা হচ্ছে ময়লা ও আবর্জনা। এভাবে জমা পানির পরিমাণ বাড়লে ময়লাসহ তা গিয়ে মিশছে পশ্চিমে সমুদ্র সৈকতে। গত দুই মাস ধরে দুর্গন্ধুযুক্ত এসব পানি জমা ও সাগরে মিশলেও সংশ্লিষ্টদের কোনো মাথাব্যথা নেই। নোংরা পানির দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন পর্যটকসহ স্থানীয়রা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহাদত হোসেন বলেন, কলাতলী মোড় থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত সড়কটি এক বছর আগে দৃষ্টিনন্দন করা হয়। অবকাঠামো উন্নত হলেও আশপাশের হোটেল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ময়লা পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ময়লা পানি রাস্তায় জমে থাকে। আবর্জনায় ভরে রয়েছে নালা। সেখানের ময়লা পানিও চলে আসে রাস্তায়। একসময় সড়কের এই নোংরা পানি নামছে সৈকতে। এতে কলাতলী পয়েন্টের পরিবেশ বিষিয়ে উঠছে। এ অবস্থায় কক্সবাজার ভ্রমণে আগ্রহ হারাচ্ছেন পর্যটকরা। অনেক পর্যটক কক্সবাজারের পরিবেশ নিয়ে বাজে মন্তব্যও করছেন।

কলাতলী এলাকার অভিজাত রেস্টুরেন্ট স্যান্ডি বিচের পরিচালক আব্দুর রহমান বলেন, কলাতলীর অধিকাংশ অলি-গলি চলাচলের অযোগ্য। বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। নালার পানি উঠে আসে রাস্তায়। কলাতলী পয়েন্ট পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। কিন্তু দুর্গন্ধ আর নোংরা পানির জন্য অনেকে এদিকে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। বদ্ধ জলাশয়ের মতো সড়কে জমা দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা পানি নামছে সৈকতে। দুর্গন্ধে বালিয়াড়িতে হাঁটতেও অস্বস্তি অনুভব করছেন পর্যটকরা। পরিকল্পিত উন্নয়নের অভাবে দিনদিন সৌন্দর্য হারাচ্ছে কলাতলীর এই পয়েন্ট।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, আমাদের ড্রেনেজ সিস্টেম পরিকল্পিতভাবে তৈরি। কিন্তু পাহাড়ের মাটি এবং স্থানীয় ও হোটেল রেস্টুরেন্টের ফেলা আবর্জনায় ড্রেনগুলো ভরে আছে। পানি জমার বিষয়টা জানার পর বেশ কয়েকবার ঘটনাস্থলে সওজের লোকজনকে পাঠানো হয়েছিল। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ড্রেন পরিষ্কার রাখা যাদের কাজ তারা সচেষ্ট হলে হয়তো জলাবদ্ধতা বন্ধ করা সম্ভব। সৈকতে নোংরা পানি নামার বিষয়ে দর্শনার্থীদের মতো দুঃখপ্রকাশ করা ছাড়া কিছুই করতে পারছি না।

কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, অসচেতনতার কারণে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো ময়লা-আবর্জনা ড্রেনে ফেলছে। ফলে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। পৌরসভার শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত ড্রেন পরিষ্কার করছেন। সকালে পরিষ্কার করলে রাতে পাহাড়ি মাটি ও আবর্জনা এসে ড্রেন ভরে যায় বিধায় সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

সায়ীদ আলমগীর/এএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]