অ্যাসিডদগ্ধ খাদিজার চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন কুমিল্লার পুুলিশ সুপার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৯:৪০ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

কুমিল্লায় এক রঙমিস্ত্রির অসম প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় অ্যাসিড নিক্ষেপে ঝলসে দেয়া খাদিজা আক্তার মনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিট থেকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মনিকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রেখে তার চিকিৎসা চলছে।

রাতে মুঠোফোনে এসব তথ্য জানান মনির বাবা মোখলেছ মিয়া। তিনি বলেন, মঙ্গলবার হয়তো মনিকে কেবিনে নেয়া হতে পারে। এখন আমরা জরুরি বিভাগে আছি, এখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

এদিকে, খাদিজার চিকিৎসার বিষয়ে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি মেডিকেলের চিকিৎসার বাইরে যে খরচ দরকার হবে; মানবিক কারণে এই দরিদ্র পরিবারকে সেই সহায়তা দেয়া হবে।

পাশাপাশি সোমবার বিকেলে ঢাকায় বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগে মনিকে দেখতে আসে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে মনির বাবার হাতে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া পরিশোধ করেন তারা।

রাতে মুঠোফোনে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সহ-সমন্বয়কারী (তদন্ত ইউনিট) অনির্বান সাহা বলেন, গণমাধ্যমে খবর জানতে পেরে আমরা অ্যাসিড দগ্ধ মনির সহায়তায় এগিয়ে আসি। এরই মধ্যে ঢাকায় বার্ন ইউনিটে গিয়ে আমরা সংস্থার পক্ষ থেকে কিছু সহায়তা দিয়েছি। চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা সংস্থার পক্ষ থেকে দেয়া হবে।

খাদিজার বাবা মোখলেছ মিয়া বলেন, আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় চিকিৎসকরা বলার পরও মেয়েকে নিয়ে কুমিল্লায় হাসপাতালে পড়েছিলাম। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদের সহায়তা ও পরামর্শক্রমে শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মেয়েকে নিয়ে এসেছি। সহায়তার জন্য পুলিশ সুপার এবং ঢাকার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ঘটনার একমাত্র আসামি রঙমিস্ত্রি চট্টগ্রামের হারুন (২৮) এখন কারাগারে। রোববার কুমিল্লার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন হারুন। অ্যাসিড নিক্ষেপের বিষয়টি স্বীকার করে হারুন জানান, প্রেমের টানাপোড়েনের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে খাদিজাকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন

গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে মোখলেছের ভাড়া বাড়িতে তার মেয়ে মনিকে জানালা দিয়ে অ্যাসিড নিক্ষেপ করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে।

এ সময় তাদের সহযোগিতায় মনিকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মোখলেছ মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার নয়নপুর গ্রামে।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া নোয়াপাড়া গ্রামে বাগড়া-কুমিল্লা সড়কের পূর্বপাশের মো. হোসেন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন তিনি। পেশাগত কারণে ৬-৭ মাস পরিবার নিয়ে তিনি চট্টগ্রামে ছিলেন। সেখানে থাকা অবস্থায় চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা এলাকার রঙমিস্ত্রি হারুনের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। করোনার কারণে পরিবার নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়ার বাগড়া নোয়াপাড়া গ্রামে চলে আসেন হারুন।

হারুনও এখানে এসে একই বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে রঙমিস্ত্রির কাজ করতেন। বিভিন্ন সময়ে মনিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন তিনি। কিন্তু এতে সাড়া না দেয়ায় অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন। হারুন আহত মনিকে দেখতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে শনিবার রাতে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।

মো. কামাল উদ্দিন/এএম/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]