সন্তান বিক্রি করে দিলেন বাবা, মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শেরপুর
প্রকাশিত: ০৭:২৭ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
মা সোমার কোলে সন্তান

শেরপুর সদর উপজেলায় সিজারিয়ান অপারেশনের টাকা দিতে না পেরে সন্তান বিক্রি করেন বাবা। সন্তান বিক্রির ক্ষোভে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মা।

খবর পেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী মা সোমা আক্তারকে উদ্ধার করে পুলিশ। একই সঙ্গে সদর উপজেলার কানাশাখোলা এলাকার বাসিন্দা শফিকের কাছে বিক্রি করা সন্তানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পাশাপাশি শিশুটির বাবা সুলতানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সদর উপজেলার সাপমারি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সদর উপজেলার সাপমারি গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে সুলতান দুই স্ত্রী থাকার পরও দুই বছর আগে গাজীপুরের মাওনা এলাকার আব্দুল আজিজের মেয়ে সোমা আক্তারকে বিয়ে করেন।

বিয়ের পর থেকে স্বামীর বাড়িতেই সোমা। এরই মধ্যে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। প্রসবব্যথা উঠলে তাকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনে এক ছেলেসন্তানের জন্ম দেন সোমা।

সিজারিয়ান অপারেশনের খরচ আসে ২২ হাজার টাকা। সেই টাকা সোমাকে পরিশোধের জন্য চাপ দেন স্বামী সুলতান। কিন্তু সোমা টাকা পরিশোধ না করায় সদর উপজেলার কানাশাখোলা এলাকার ব্যবসায়ী শফিকের কাছে গোপনে সন্তানকে ৯১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন সুলতান।

খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর বুধবার দুপুরে সন্তানের খোঁজে শফিকের বাসায় যান সোমা। এ সময় শিশুটি তার বাসায় নেই বলে সোমাকে তাড়িয়ে দেন শফিক।

এ অবস্থায় রাগে-ক্ষোভে কানাশাখোলা বাজারে ইউরিয়া সার খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সোমা। বিষয়টি দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-সার্কেল) আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুর মা সোমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটি উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুর বাবা সুলতানকে আটক করা হয়েছে।

এএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]