হাত দিয়ে কার্পেটিং টেনে তোলা সেই রাস্তাটির এখন এই দশা

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৯:২০ এএম, ০১ অক্টোবর ২০২০

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার দেওহাটা-ধানতারা আঞ্চলিক সড়কটির ওপর কোনো কার্পেটিং নেই। দেখে বোঝারও উপায় নেই কোনো এক সময় সড়কটি কার্পেটিং করা হয়েছিল। গত দুই বছর আগে সড়কটি কার্পেটিং করা হয়। আর এর মধ্যেই কার্পেটিং উঠে গর্ত হয়ে ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে সড়কটি।

পুরো সড়কে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে কাদা হচ্ছে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় এই সড়কটি দিয়েই যানবাহন ও পথচারীদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এছাড়া একই সড়কের মীর দেওহাটা এলাকায় দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ব্রিজের মাঝখানে গর্তের সৃষ্টি হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা রাস্তায় ইট ফেলে ও ব্রিজের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে কিছু সংস্কারের চেষ্টা করলেও তা কাজে আসেনি। সড়কটিতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহাণির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস ও স্থানীয় সূত্র জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের দেওহাটা থেকে ধামরাই হয়ে ঢাকা যাওয়ার অন্যতম রুট দেওহাটা-ধানতারা সড়ক। এই সড়কটি মির্জাপুর উপজেলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ধামরাই, মানিকগঞ্জ, সাটুরিয়া ও ঢাকায় যোগাযোগের সহজ মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও হাজারও মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকে।

Road-Mirzapur

১৯৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১২ মিটার দৈর্ঘ্য এই ব্রিজটি নির্মাণ করে। তখন ওই সড়কের বেশিরভাগই ছিল কাঁচা। তারপর থেকে একাধিকবার ওই সড়ক সংস্কার ও পাকাকরণের কাজ করা হলেও জরাজীর্ণ ব্রিজটি তেমনিই রয়ে গেছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে কর্পেটিং উঠে গিয়ে গর্তেরও সৃষ্টি হয়েছে।

মির্জাপুর এলজিইডি অফিস দেওহাটা থেকে চান্দুলিয়া আলহাজ শিল্পপতি নুরুল ইসলাম ব্রিজ পর্যন্ত সোয়া ৪ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। ২০১৮ সালে টাঙ্গাইলের আরএস এন্টারপ্রাইজ টেন্ডারের মাধ্যমে ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ (কার্পেটিং) করা হয়। কিন্তু সংস্কারের ১৫ দিন পরই হাত দিয়ে কার্পেটিং টেনে তোলেন এলাকাবাসী। এছাড়া কাজের মান নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদও প্রকাশিত হয়।

স্থানীয়রা জানান, গত ঈদুল আজহার সময় ওই ব্রিজের কয়েক স্থানে ফাটল দেখা যায়। ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকায় তা আস্তে আস্তে ভাঙনে পরিণত হয়ে গর্ত তৈরি হয়। এখন তিনদিন ধরে ব্রিজের মাঝখানে একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সড়কটির কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তে বৃষ্টির পানি জমে যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে পুরো রাস্তা কাদায় পরিণত হয়। গর্তে পড়ে প্রতিদিন একাধিক যান বিকল হচ্ছে। এছাড়া পথচারীদের চলাচলে প্রতিনিয়নত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ব্রিজের ওপর দিয়ে ছোট বড় যানবাহন চলছে। একটি যান ব্রিজের ওপর উঠলে অপর প্রান্তে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।

Road-Mirzapur-1

মীর দেওহাটা গ্রামের টুটুল, কাদের, জুয়েল, শাজাহান ও রাজ্জাক জানান, সড়কটি ব্যস্ততম সড়ক। সময় বাঁচাতে ও দুর্ঘটনা এড়াতে ঢাকা, ধামরাই, সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ ও মির্জাপুরের লোকজন এই সড়কটি ব্যবহার করে থাকেন। দুই বছর আগে সড়কটি নির্মাণে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছিল।

ওই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী যানবাহনের চালক শওকত হোসেন, আরজু মিয়া, মফিজউদ্দিন জানান, সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে যে বোঝার উপায় নেই সড়কটিতে কখনো কার্পেটিং করা হয়েছিল। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মির্জাপুরের কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, সড়কটি ৮-১০ টনের যানবাহন চলাচলের উপযোগী। কিন্তু ২০-২৫ টনের যানবাহন চলাচল করছে। সড়কটি দিয়ে ২৫টি ভাটা ও একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভারি ট্রাক চলাচল করে থাকে। এছাড়া প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে মাটিভর্তি শত শত বড় ড্রাম ট্রাক ভাটায় চলাচল করে। এ কারণে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে এবং বিশ্বব্যাংকের ব্রিজ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবেও দেখানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

এসএম এরশাদ/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।