তিন কিলোমিটার রাস্তায় ৯টি সাঁকো, এলাকা ছাড়ছে মানুষজন

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ০৬:০২ পিএম, ০২ অক্টোবর ২০২০

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ নিকটবর্তী গ্রামের মানুষজন মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

জোয়ার ভাটার সঙ্গে লড়াই করেই চলছে এখানকার মানুষের জীবন। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের কোনো ছোয়া লাগেনি এসব এলাকায়। ৩ কি.মি. প্রধান একটি সড়কে রয়েছে ৯টি বাঁশের সাঁকো। যথাযথ কর্তৃপক্ষ এসব অবহেলিত এলাকাগুলোর প্রতি সুনজর দেবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের বানাতী বাজার থেকে ৫নং ওয়ার্ডের চারিপাড়া, নয়াকাটা ও চৌধুরীপাড়া গ্রামে যাওয়ার ৩ কি.মি. প্রধান সড়কটি একাধিক জায়গায় ভাঙা রয়েছে। মাত্র ৩ কি.মি. রাস্তা অতিক্রম করতে ৯টি বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়। যা বর্তমান উন্নয়নমুখী সরকারের আমলে অবিশ্বাসযোগ্য একটি বিষয়।

এছাড়াও এসব এলাকার বেড়িবাঁধ সংলগ্ন মানুষগুলো অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে জীবন অতিবাহিত করছে। জোয়ারের পানিতে ঘরে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। তখন তাদের ঘরের চৌকির ওপর বসেই রান্না ও খাওয়া-দাওয়াসহ যাবতীয় কাজ করতে হয়। রাতে ঘুমিয়ে থাকলেও আতঙ্ক কাজ করে।

Kalapara-2

এসব আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠার মাঝেই কাটছে তাদের জীবন। রাস্তা-ঘাটগুলোরও অবস্থা বেহাল। ইটের রাস্তার বিভিন্নস্থানে ইট উঠে গিয়ে খানা-খন্দে ভরে গেছে। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা। অসুস্থ রোগী নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের।

এ যেন সোনার বাংলায় অন্য একটি অন্ধকার দেশের কল্পকাহিনী। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে তবে এসব এলাকার উন্নয়নের প্রশ্নের সঠিক উত্তর যেন জানা নেই কারোরই।

জানা যায়, ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের চারিপাড়া, নয়াকাটা ও চৌধুরীপাড়া গ্রামে মোট ৮শ পরিবারের বসবাস রয়েছে। এর মধ্যে স্বচ্ছল প্রায় ২শ পরিবার অন্য ইউনিয়নে চলে গেছে। এদের মধ্যে নিতান্ত গরিব প্রায় ২শ পরিবার বেড়িবাঁধের দুই পাশে আশ্রয় নিয়েছে। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ কৃষক ও জেলে। অথচ সরকার থেকে তেমন কোনো সাহায্য পাচ্ছে না বলে অনেকেই অভিযোগ করেন।

সর্বশেষ সুপার ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে এসব এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এখন পর্যন্ত সরকার হতে তেমন কোনো সাহায্য পায়নি বলে জানান বেড়িবাঁধ সংলগ্ন অসহায় মানুষগুলো। তাই সংবাদকর্মীদের পেয়ে চাপা ক্ষোভে ফেঁপে ওঠেন তারা।

চারিপাড়া গ্রামের বেড়িবাঁধের উপর বসবাসকারী আবুল হাওলাদারের স্ত্রী জেসমিন বেগম, শামসুল হক ফকিরের ছেলে সেলিম ফকির, মৃত মফিজ ফকিরের ছেলে আকবর ফকির ও মৃত ওয়াজেদ আলী হাওলাদারের ছেলে মহিউদ্দিন হাওলাদারসহ অনেকেই জানান, আমাদের ঘর-বাড়ি নদীর ভাঙনে ভেঙে যাওয়ায় বেড়িবাঁধের ওপরে আশ্রয় নিয়েছি। ঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের মধ্যে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে আমাদের থাকতে হয়। অন্যত্র যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও যেতে পারছি না। সরকার আমাদের প্রতি একটু সুনজর দেবে এটাই আমরা আশা করছি।

Kalapara

৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. রবিউল হাওলাদার বলেন, লালুয়া ইউনিয়নের মধ্যে আমার ওয়ার্ডটির অবস্থা খুবই শোচনীয়। একটি রাস্তায় ৯টি বাঁশের সাঁকো যা অন্য কোথাও আছে কিনা আমার জানা নেই। এর মধ্যে দু-একটি বাদে বাকি সাঁকোগুলোর অবস্থাও খুব খারাপ। অতি দ্রুত এগুলোর মেরামত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আমার ওয়ার্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোক অন্যত্র চলে গেছে। তাই যারা আছে তাদের সহায়তার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।

লালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস বলেন, আমার ইউনিয়নের সবগুলো ওয়ার্ডের মধ্যে ৫নং ওয়ার্ডটি খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। বেড়িবাঁধ সংলগ্ন হওয়ায় এ ওয়ার্ডটির রাস্তাঘাট প্রায় ১২ মাসই পানির নিচে থাকে। তাই জোয়ার-ভাটার মধ্যেই এলাকার মানুষ বসবাস করে। তাই কোনো সহায়তা এলে তার বেশিরভাগই এসব এলাকায় দেয়ার চেষ্টা করি। খুব দ্রুত রাস্তার সাঁকোগুলো মেরামত করে দেবেন বলেও তিনি জানান।

এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।