বয়স বাড়ে, ভাগ্য আর খোলে না

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ভোলা
প্রকাশিত: ১২:৫৪ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০

ছোট থেকেই কষ্ট করে আসলেও এ বয়সে থাকার কথা ছিল আরাম আয়েসে। কিন্তু ৭০ বছরে বয়সেও ২০০-৩০০ টাকা পারিশ্রমিকে গাছ কাটার শ্রমিক হিসেবে দিনমজুরের কাজ করেন ভোলার রফিকুল ইসলাম। মেঘনা নদী তীরবর্তী অন্যের জমিতে কোনো রকম ঘর তুলে স্ত্রী-সন্তাদের নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। দিনমজুরের কাজ করে দু’বেলা খাবার খেয়ে জীবন কাটছে তার। ভাগ্যে জোটেনি কোনো সরকারি সুযোগ সুবিধা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের তুলাতুলি গ্রামের মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকায় গোলদার পরিবারের এক শতাংশ জমিতে বসবাস করছেন হতদরিদ্র বৃদ্ধ মো. রফিকুল ইসলাম। প্রতিদিনই জীবন জীবিকার তাগিদে বৃদ্ধ বসয়েও গাছ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন তিনি।

Rafiqul-3

রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার কোনো জমি বা কোনো সম্পতি নেই। বাবার যে সম্পদ ছিল তা বাবাই মৃত্যুর আগে বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকে তিনি একের পর এক অন্যের জমিতে ঘর তুলে বসবাস করছেন। কারো জমিতে ৫ বছর, কারো জমিতে ১০ বছর এমন করে চলছে তার জীবন।

তিনি আরও বলেন, আমার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। আমার বাবাও একজন দিনমজুর ছিলেন। আমিও ছোট থেকে দিনমজুর হিসেবে কাজ করি। স্ত্রী-সন্তানদের মুখে দু’বেলা খাবার তুলে দিতে এখনও ২০০-৩০০ টাকা রোজে দিনমজুরের কাজ করছি।

রফিকুলের স্ত্রী রওসনা বেগম জানান, বিয়ের পর থেকে স্বামীর সংসারে কষ্টে জীবনযাপন করছেন। কখনও কখনও তিন বেলার পরিবর্তে একবেলা লবণ দিয়ে ভাত খেয়েও জীবন কাটিয়েছেন। বর্তমানে একমাত্র ছেলে বাবার সঙ্গে গাছ কাটার কাজে যায়। যে আয় হয় তাতেও সংসার চলে না। এখনও দুঃখ-কষ্টে দিন কাটছে আমাদের।

Rafiqul-3

বড় মেয়ে কহিনুর বেগম জানান, আমার বাবা অনেক গরিব। টাকার অভাবে আমাদের দুই বোনকে ভালো পরিবারের বিয়ে দিতে পারেননি। বাবার মতো হতদরিদ্র দিনমজুরের সঙ্গেই আমাদের বিয়ে হয়েছে।

ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. এমদাদ হোসেন কবির জানান, রফিকুলকে সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন তিনি।

এফএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]