৫৫ বছরে ৪০ বিয়ে করে সোবহান এখন পাগলপ্রায়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ০৮:২৯ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০
আবদুস ছত্তার ও নান্না

যেন বিয়ে করাই তার নেশা। ৫৫ বছরে বিয়ে করেছেন ৪০টি। একের পর এক বিয়ে করতে করতে এখন তিনি পাগলপ্রায়। এবার অন্যকে ফাঁসাতে নিজের বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে খুন করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন বিয়েপাগল এই বাবা।

নিজের মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে খুন করতে গিয়ে ধরা পড়া বিয়েপাগল বাবার নাম আবদুস সোবহান। তিনি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঘটনার সময় বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে বাঁচাতে আসা দুই প্রতিবেশীকে কুপিয়ে জখম করেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এরই মধ্যে আবদুস সোবহানকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন আগে প্রতিবেশী আবদুস ছত্তার ও তার ছেলে নান্নার সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সোবহানের বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধকে কেন্দ্র করে সকালে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সোবহান ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে রিশাকে খুন করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন।

এ সময় রিশাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে প্রতিবেশী ছত্তার ও তার ছেলে নান্নাকে কোপাতে শুরু করেন তিনি। সোবহানের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নান্নার হাতের একটি আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা লতিফ বলেন, আবদুস সোবহান এখন পর্যন্ত কতগুলো বিয়ে করেছেন তার সঠিক হিসাব নেই। তবে গ্রামের লোকজন বলছেন ৪০টি বিয়ে করেছেন। একের পর এক বিয়ে করে তিনি এখন পাগলপ্রায়। এজন্য এসব কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

স্থানীয়রা আহতদের পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। আঘাত গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ছত্তার ও তার ছেলে নান্নাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত প্রতিবন্ধী রিশাকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, অন্য আহতদের বরিশালে পাঠানো হয়েছে। রিশাকে এখানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

পাথরঘাটা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, গুরুতর আহতদের বরিশালে পাঠানো হয়েছে এবং রিশাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]