দিনে দু’ঘণ্টা আলো জ্বলে চার গ্রামে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ১০:৫২ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০২০

সুনামগঞ্জের শাল্লার শাসখাই বাজারসহ ৪টি গ্রামের প্রায় ৫০০ গ্রাহক সৌর বিদ্যুতের সংযোগ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। সোলার কর্তৃপক্ষ প্রথম চুক্তি মোতাবেক তাদেরকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিলেও এখন দিনে ২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিচ্ছে। মাঝে মাঝে সেটাও দিচ্ছে না। এ অবস্থায় সৌর বিদ্যুৎ ছেড়ে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ নিতে আবেদন করেছেন গ্রাহকরা।

সরেজমিনে শাসখাই গ্রামে গিয়ে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শাসখাই বাজারসহ আশপাশের ৪ গ্রামে সৌর বিদ্যুৎ দেয়ার জন্য প্রায় ৩০ কোটি টাকার কাজ করায় ইটকল নামের একটি উন্নয়ন সংগঠন। প্রকল্পটি তারা বেরসকারি কোম্পানি রহিমা আফরোজকে দিয়ে কাজ করায়। প্রকল্প থেকে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ দেয়ার কথা ছিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। কয়েক বছর সেভাবেই পান গ্রাহকরা।

কিন্তু গত ২৭ মার্চ থেকে গ্রাহকরা ২ ঘণ্টা অর্থাৎ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধও রাখছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

এ অবস্থায় প্রায় ৪০০ গ্রাহকের পক্ষ থেকে গত বুধবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, তারা এই প্রকল্প থেকে আর বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন না। পাশেই পল্লী বিদ্যুতের লাইন রয়েছে। সেখান থেকে সংযোগ নিতে ইচ্ছুক তারা।

স্থানীয় হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুবল চন্দ্র দাস বলেন, আমরা বিপদে পড়েছি। ২ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাই না। তাও আবার বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ নেই। আমাদের পাশে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ আছে, তারা দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ পাচ্ছে। এজন্য পল্লী বিদ্যুতে চলে যেতে চাই আমরা। আমরা জেনেছি এই প্রকল্প এখন বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ক্ষমতা হারিয়েছে, তাদের অনেক কিছুই এখন আর কাজ করছে না।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দিরাই-শাল্লার আবাসিক প্রকৌশলী মো. হায়দার আলী জানান, সোলার প্রকল্প থেকে গ্রাহকরা প্রথম দিকে যেভাবে বিদ্যুৎ পেয়েছিলেন এখন সেভাবে পাচ্ছেন না। আবার ৪৪৮ জন গ্রাহকের কাছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা বকেয়াও রয়েছে।

তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুতের লাইন এসব গ্রাহকদের গ্রামের কাছে আছে। এখন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে কী করতে হবে।

jagonews24

এই প্রকৌশলী জানান, মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসে এই প্রকল্প বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে বুঝে নেয়ার জন্য। কিন্তু আমি বলব এই প্রকল্প রুগ্ন। এরা এখনই বিদ্যুৎ দিতে পারছে না। অনেক কিছুই তাদের ড্যামেজ হয়ে আছে।

সোলার প্রকল্পের স্থানীয় টেকনেশিয়ান ইমন আলী বলেন, আমরা বিদ্যুৎ দিতে পারছি না একথা সত্য। যা পারছি দিচ্ছি। এ বিষয়ে জানতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করতে হবে।

সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ইকরাম হাসান চৌধুরী জানান, শাল্লার সোলার প্রকল্পে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে শুনেছি। সোলারের গ্রাহকদের অনেক বকেয়া পড়েছে। আবার তারা দাবি করছেন চাহিদামতো বিদ্যুৎ নিতে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে এই প্রকল্প আমাদের নেয়ার কথা। সকল বিষয়েই দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, যেহেতু এই প্রকল্পটি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড দেখভাল করে তাই আমি তাদের কাছে স্মারকলিপির কপি পাঠিয়ে বিষয়টি দেখার জন্য দিয়েছি।

এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।