প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে কক্সবাজার সৈকতে ভিড়
করোনা মহামারির কারণে তিন দশকের বিলাসপূর্ণ প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানেও ছেদ পড়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান ছাড়াই বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে এবার অনানুষ্ঠানিক প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে সোমবার (২৬ অক্টোবর)। তবে করোনা আতঙ্কের মাঝেও গভীর শ্রদ্ধায় মা দুর্গাকে বিদায় জানাতে আনন্দে মেতেছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। নানা পেশা ও শ্রেণির ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বিপুল সংখ্যক মানুষের কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে সৈকতের বালিয়াড়ি।
কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ জানায়, চলতি বছর কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলা এবং আশপাশের শতাধিক প্রতিমা সৈকতে বিসর্জন দেয়া হয়েছে। অন্য বছর আলোচনা সভাসহ নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হলেও এ বছর শুধুমাত্র বিসর্জন মন্ত্র পাঠ করেই প্রতিমা সাগরে ভাসিয়ে দেয়া হয়। একই সময়ে চকরিয়ার মাতামুহুরী, টেকনাফের নাফ নদ, উখিয়ার ইনানি সৈকত, বাঁকখালী ও রেজু নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়েছে।
বিসর্জন ঘিরে দুপুর ২টা থেকে স্ব-স্ব ব্যবস্থাপনায় ট্রাকে করে প্রতিমা এনে সৈকতে জড়ো করা হয়। বালিয়াড়িতে রাখা দুর্গা প্রতিমা ঘিরে চলে ভক্তদের শেষ আরাধনা। অনুষ্ঠানকে ঘিরে সমাগম ঘটে পর্যটকসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিপুল মানুষের।
জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা জানান, চলতি বছর জেলায় ১৪৪টি প্রতিমা, ১৫৫টি ঘট মিলে ২৯৯টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হয়েছে। ২৬ দফা নির্দেশনা মেনে এবার দুর্গোৎসব পালিত হয়। করোনা মহামারির কারণে এবার আলোচনা অনুষ্ঠান করিনি। অনুষ্ঠান স্থল নিরাপদ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়।

কক্সবাজার সদর পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বাপ্পী শর্মা বলেন, করোনা চলতি সময়টাকে বিষিয়ে তুলেছে। তাই মা দুর্গার কাছে আমাদের বিশেষ প্রার্থনা ছিল মানুষ যেন বিভিন্ন রোগ-শোক থেকে রক্ষা পায়। আবহাওয়ার আনুকূল্যই বলে দেয় মা দুর্গা আমাদের প্রার্থনা শুনেছেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, জেলার আট উপজেলার ২৯৯টি পূজামণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব পালিত হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার ইউনিটের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, অনুষ্ঠান না হলেও সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে সব ধর্মের লোকজনের সমাগম ঘটে। অনাকাঙিক্ষত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রণজিৎ দাশ বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। এ সময় লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে সৈকত। এবার করোনার কারণে সেই প্রথা ভেঙেছে। কোনো অনুষ্ঠান ছাড়াই প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে। এরপরও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় করোনা আতঙ্কের মাঝেও পর্যটকসহ বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছে সৈকতে।
সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/এমকেএইচ