দীর্ঘদিনেও সংস্কার হয়নি সড়ক, দুই লাখ মানুষের দুর্ভোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:৩৩ পিএম, ৩০ অক্টোবর ২০২০
সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়ক

‘যাত্রীরা কি পরিমাণ বিরক্ত তা বলে বোঝানো যাবে না। মাঝেমধ্যে মনে হয় এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেই। কিন্তু উপায় নেই। এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে গাড়ির অবস্থা লক্কড়ঝক্কড় হয়ে যায়। যাত্রী এবং চালকদের শরীরের একই অবস্থা হয়। দীর্ঘদিনেও সংস্কার করা হয়নি সড়কটি। যেন দেখার কেউ নেই।’

এভাবেই দুর্ভোগের কথাগুলো বলেছেন সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে চলাচলকারী সিএনজিচালক জহির আহমদ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে তার সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের।

জহির আহমদ বলেন, এই সড়কের পাশের গ্রাম জগরাইরগাঁওয়ে আমার বাড়ি। এজন্য এই সড়কে গাড়ি চালাতে হয়। না হয় বেশি টাকা ভাড়া পেলেও এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতাম না।

Sunamgonj-Road-2

জগাইরগাঁওয়ের সিএনজিচালক বদরুল আলম ও টুকের বাজারের জাহাঙ্গীর আলম এবং জামালগঞ্জের ব্যবসায়ী রিপন তালুকদার জানান, সাচনা-সুনামগঞ্জ সড়ক দিয়ে জামালগঞ্জের বেশিরভাগ মানুষ চলাচল করেন। চার দফায় বন্যায় সড়কের অবস্থা নাকাল হয়ে গেছে। সড়কে অসংখ্য বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে সড়কটি। পুরো সড়কটির সংস্কার প্রয়োজন।

উপজেলার আরেক অংশের মানুষের যাতায়াত জামালগঞ্জ-উজ্জ্বলপুর-কাঠইড় সড়ক দিয়ে। এই সড়কের উজ্জ্বলপুর অংশ বন্যায় ভেঙে গেছে। ওই অংশ দিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হয়। এ অবস্থায় জামালগঞ্জের প্রায় দুই লাখ মানুষ কার্যত সড়ক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এজন্য প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহান এখানের দুই লক্ষাধিক বাসিন্দা।

সাচনাবাজারের বিপ্লব দেব বলেন, সাচনাবাজার কেবল ভাটি অঞ্চলের বড় বাজার নয়; ভাটির বন্দর হিসেবেও খ্যাত। সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাসিন্দারাও এই বাজারে কেনাকাটার জন্য আসেন। সড়ক যোগাযোগের বেহাল অবস্থা হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সবাই। দ্রুত ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার করা জরুরি।

Sunamgonj-Road-2

জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ বলেন, আমি এক সপ্তাহ হয় নির্বাচিত হয়েছি। আমাকে শত শত মানুষ ফোন দিয়ে সড়কটি সংস্কারের কথা বলেছেন। পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ, দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হোক।

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামীম হোসেন বলেন, এই সড়কের যেসব স্থানের অবস্থা বেশি খারাপ সেসব স্থানের প্রাক্কলন তৈরি করে দরপত্রের জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আবার পুরো সড়ক ভেঙে নতুন করে করার জন্যও প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া করা হবে।

সুনামগঞ্জ এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হরজিৎ সরকার বলেন, গত সপ্তাহে সিলেটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম এসে উজ্জ্বলপুর অংশের ভাঙন দেখে গেছেন। এর আগে এলজিইডির সদর দফতরের প্রধান প্রকৌশলীকে ভাঙনের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সড়কের দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর সড়কটি সংস্কার করা হবে।

লিপসন আহমেদ/এএম/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]